ঠিক যেন দামোদর শেঠ! রোজ এক কেজি চালের ভাত খেয়ে ১৬ কিলোমিটার সাইকেল চালান দুলাল মুর্মু

অল্পেতে খুশি হয় দামোদর শেঠ কি? মুড়কির মোয়া চাই, চাই ভাজা ভেটকি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা সকলেই জানেন। তবে এমন মানুষকে সত্যিই আছেন। দুলাল মুর্মুকে (Dulal Murmu) দেখলে আপনার মনে পড়তে পারে দামোদর শেঠের কথা। দামোদর শেঠের মত মোটাসোটা ওজনের নয়, পাতলা ছিপ ছিপে গরন দুলাল মুর্মুর (Dulal Murmu)। দামোদর শেঠের মত রকমারি পদ চাই না, একটা সবজি এক টুকরো মাছ দিয়েই খেয়ে ফেলতে পারেন দু’কেজি চালের ভাত। শুনে অবাক হচ্ছেন! তবে এটাই সত্যি। 

বাঁকুড়ার হীড়বাঁধের পড়্যারডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র মুর্মু। দুলাল মুর্মু পেশায় খাতড়া মহকুমা আদালতের মুহুরি। তার বাড়ি থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। প্রতিদিন বাড়ি থেকে ১৬ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেল চালিয়ে আসেন তিনি। বাড়ি থেকে আনেন না টিফিন। টিফিন টাইমে এসডি ও মোড়ের একটি ভাতের হোটেলে দুপুরে খাবার খান তিনি। মাত্র ৫০ টাকাতেই পেট ভর্তি খাবার পাওয়া যায় এই দোকানে। তবে দুলালবাবুকে খাইয়ে প্রতিদিন লোকসান হয় ওই ভাতের হোটেলের মালিকের। কারণ দুলাল বাবু একাই এক কেজির বেশি চালের ভাত খেয়ে নেন।

ওই ভাতের হোটেলের মালিক সুভাষ সিংহ বলেছেন, “দুলালবাবুকে খাইয়ে প্রতিদিন তার প্রায় ৩০ টাকা লোকসান হয়।” তিনি আরও বলেন, “এখন মানুষ তো খুব বেশি খেতেই চায়না। উনি খান। লোকসান হলেও ওঁকে খাইয়ে আমরা আনন্দ পাই।”

দুলালচন্দ্র মুর্মুর এক সহকর্মী সাগেন মুর্ম্মু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা ওঁর খাওয়ার সাক্ষী। সম্প্রতি একটি বিয়েবাড়িতে ৩০টি নান, ১ কেজি খাসি মাংস, ৫০টির মতো রসগোল্লা খেয়েছেন। আগে শোনা যেত এমন খাওয়ার গল্প। এখন তো আর কানে আসে না তেমন।”

দুলালবাবুকে নিয়ে হাসাহাসি করেন না কেউই। দুলাল বাবুকে নিয়ে রীতিমতো গর্ব করেন তাঁরা। তবে প্রতিদিন এত খাওয়ার পরেও মেদহীন ঝরঝরে চেহারা দুলালবাবুর। তার খাওয়া দাওয়া, চেহারা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দুলাল বাবু বলেন, “খুব খাঁটি তো। সে কারণেই কোনও সমস্যা হয় না।” 

দুলাল বাবু হোটেলের কথা ভেবে কিছুটা কম খান এও জানিয়েছেন তিনি। দুলাল বাবু বলেছেন, “বাড়িতে আমি দু কেজি চালের ভাত খাই কিন্তু হোটেল মালিকের মুখ চেয়ে আমি এক কেজি চালের ভাত খেয়ে সন্তুষ্ট থাকি।”

আরও অন্যান্য খবর