স্কুল সংস্কারের টাকা আর নয় ছয় করেছেন দেব (Dev)। এমনই অভিযোগ বিরোধীদলের। নতুন করে স্কুল সংস্কারের টাকা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবার সোমবার সকালে ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দেবের (Dev) বিরুদ্ধে পড়ল পোস্টার। দেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি স্কুল সংস্কারের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও টাকা তিনি দেননি। লোকসভা ভোটে জেতে তিনি স্কুল সংস্কারের টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এদিকে টাকা আসেনি, এই ইস্যুতেই সরব হয়েছে বিরোধী দল। দেবের (Dev) তরফে বলা হয়েছে নিয়মের জন্য এখনো টাকা দেওয়া হয়ে ওঠেনি। তবে বিরোধী দল দাবি করছে, নিয়ম দেখিয়ে চুপ করে রেখেছেন, আর এদিকে টাকা ভরেছেন নিজের পকেটে।
পশ্চিম মেদিনীপুর ঘাটালের খড়ার সূর্যকুমার হেমাঙ্গিনী হাইত বালিকা বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। শতবর্ষ প্রাচীন এই স্কুলের চাঙর ভেঙে পড়ছে একাধিক জায়গা থেকে। এমনকি গত বছর স্কুলের ভিতর ক্লাস চলাকালীনই চাঙর ভেঙে পড়ে। তবে কোন ছাত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হননি। তবুও এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে অভিভাবক ও ছাত্রীদের মধ্যে। এই ঘটনার পর গত অক্টোবর মাসে দেব ওই স্কুল পরিদর্শনে যান সেখানে গিয়েই তিনি তহবিল থেকে টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেন। ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা বলে আসেন ঘাটালের তৃণমূল তারকা প্রার্থী দেব।
সময় গড়িয়েছে, তবু টাকা পায়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, “সংসদ তহবিলের টাকা এখনও পাননি তাঁরা।” এমনই অবস্থা অন্য এক স্কুলে ক্লাস করতে হয় এই স্কুলের ছাত্রীদের। জানা গেছে এলাকারই একটি স্থানীয় স্কুল অরবিন্দ বিদ্যামন্দির। সেখানে ক্লাস শুরু হয় বেলায়। তাই ওই স্কুলেই সকালে ক্লাস করেন খড়ার সূর্যকুমার হেমাঙ্গিনী হাইত বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। এইভাবে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে ছাত্রীদের। ৫ ঘন্টার স্কুল হচ্ছে তিন ঘন্টা।
সোমবার দোলের দিন সকালে এই ইস্যুতেই এলাকায় খড়ার পৌর বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিক পোস্টার পড়ে এলাকায়। ওই পোস্টারে লেখা রয়েছে, “শিক্ষা সমাজের মেরুদণ্ড। সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি এবার বন্ধ করুন দেববাবু। আপনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি। আর প্রতিশ্রুতি নয়। হিরণদা জেতার ৩ মাসের মধ্যেই স্কুল বিল্ডিং তৈরির সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি নেবেন।”
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সমস্যার সমাধান চান স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে স্কুলের সাথে কোন রাজনৈতিক রং লাগাতে রাজি নন স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউই। কুল ভবনের সংস্কারের টাকা পাওয়া গেলে ছাত্রীরা সঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন। এ প্রসঙ্গে দেব জানিয়েছেন, নিয়ম শেষ হলেই টাকা পৌঁছাবে স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে।





