একফোঁটা জলের জন্য হাহাকার করছে ভারতের এই শহর, এক বালতি জল বিকোচ্ছে হাজার-দুহাজারে, চরম বিপদে শহরবাসী

২০১৮ সালে ভয়ানক আকার নিয়েছিল কেপ টাউনের পরিস্থিতি। সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন শহরের প্রায় ৪০ লক্ষ বাসিন্দা। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে কেপ টাউন পুরসভা সে বছরেরই ১২ ই মে তারিখটিকে ‘ডে-জিরো’ হিসেবে চিহ্নিত করেন‌। অর্থাৎ সেদিন থেকে শহরের আর কোন কলে জল পড়বে না। ‌ বিশেষজ্ঞদের মতে একই অবস্থা হতে চলেছে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি নগর বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru)। পানীয় জল তো বটেই দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় জলের জন্য ইতিমধ্যেই হাহাকার তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এক বালতি জল কিনে আনতে হচ্ছে হাজার দু হাজার টাকার বিনিময়ে। কিছু ক্ষেত্রে সেই দাম ও ছাপিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এমনি জল যন্ত্রণার ছবি উঠে আসছে বেঙ্গালুরুতে। যে বেঙ্গালুরু আজ জলের অভাবে ভুগছে, তাই পরিচিত ছিল সিটি অফ লেকস নামে। বর্তমানে যদিও বেঙ্গালুরু (Bengaluru) সেই তকমা হারিয়েছে। বর্তমানে রাজস্থানের উদয়পুর সিটি অফ লেকস নামে পরিচিত। শহরের আনাচে-কানাচে বহু হ্রদ থাকায় এই তকমা পেয়েছিল বেঙ্গালুরু। একসময় শহরে প্রায় ২৮৫ টি হ্রদ ছিল। ‌ এরমধ্যে প্রাকৃতিক হ্রদের পাশাপাশি বেঙ্গালুরুর প্রতিষ্ঠাতা কেম্পে গৌড়ার নির্দেশে নির্মিত অনেকগুলি জলাধারও ছিল। তাহলে কেন এমন অবস্থা হলো বেঙ্গালুরুর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ব্যাঙ্গালুরুতে (Bengaluru) এক সময় ৩০০ হ্রদ ছিল, অনেকগুলি উন্নয়নের জন্য বুজিয়ে ফেলা হয়েছে।‌ জলস্তরও দিনে দিনে নেমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কংক্রিটের স্তুপের নীচে চাপা পড়েছে ব্যাঙ্গালুরুর মাটি। ফলে বৃষ্টির জল ও মাটির নিচ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। ভূগর্ভস্থ জলসতর কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেঙ্গালুরুর জল সরবরাহের অব্যবস্থা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এছাড়াও দায়ী বৃষ্টিপাতের অভাব, শহরের মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা, নির্মাণ কাজে জলের অতিরিক্ত ব্যবহার, এবং জলের চাহিদা বৃদ্ধির মতো কারণ।

জলস্তর কমে যাওয়ায় বেঙ্গালুরু (Bengaluru) সহ কর্নাটকের হাজার হাজার নলকূপের জলও শুকিয়ে গেছে। আর সেই সব কারণেই বিপত্তি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রীষ্মের মরশুমে বেঙ্গালুরুর জলসংকট আরো বাড়তে পারে। হিসাব বলছে প্রায় বেঙ্গালুরুতেই ৩০০০ নলের জল শুকিয়ে গেছে। জানা গেছে জল নিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে কর্নাটকের তুমাকুরু জেলা। এছাড়াও রয়েছে উত্তর কান্নারের জেলাগুলি।

বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) ১৭৪টি গ্রাম ও ১২০ টি ওয়ার্ডে জলের ঘাটতি দেখা গেছে। রাজ্য সরকার ব্যাঙ্গালুরু সহ কর্নাটকের এমন ৭০০ টির ও বেশি গ্রাম চিহ্নিত করেছে যেগুলি গরম বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তীব্র জলের সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সমস্যার সমাধানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া উপ মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার মন্ত্রী এবং সরকারি আধিকারিকেরা জলসংকট নিয়ে বৈঠকে বসেছেন। সমস্যার সাথে মোকাবিলা করার জন্য কর্ণাটক সরকার মোট ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে যার মধ্যে ৭০ কোটি টাকা নতুন কূপ খননের জন্য খরচ করা হবে। জলসংকটের মুখে থাকা গ্রামগুলিতেই খোঁড়া হবে এই কূপগুলি। জনসাধারণের জন্য জল ব্যবহারেও কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

RELATED Articles