ছেলের মরণোত্তর সম্মান নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছে পুত্রবধূ, ‘মেডেলটা একবার ছুঁয়েও দেখতে পারলাম না’, আক্ষেপ শহিদ অংশুমানের বাবার

Martyr Captain Anshuman Singh Parents Claimed Daughter in Law took the Award: স্বামীর মরণোত্তর সম্মান হাতে নিয়ে স্বামীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছিলেন তিনি। দাম্পত্যের সুখ ঠিক কী, তা বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। বিয়ের মাত্র ৫ মাসের মাথাতেই বিধবা হন শহিদ ক্যাপ্টেন অংশুমান সিংয়ের স্ত্রী স্মৃতি সিং। কিন্তু এবার তাঁকে নিয়ে নানান অভিযোগের কথা উঠে এল। ক্যাপ্টেন অংশুমানের মরণোত্তর সেই সম্মান নিয়ে নিজের বাপের বাড়ি চলে গিয়েছেন স্মৃতি, এমনটাই জানালেন অংশুমানের পরিবার (Martyr Captain Anshuman Singh Parents Claimed Daughter in Law took the Award)

গত বছরের জুলাই মাসে সিয়াচেনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। সেই অগ্নিকাণ্ড থেকে বেশ কয়েকজনের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন অংশুমান সিং। নানান চিকিৎসার যন্ত্রপাতিও উদ্ধার করেছিলেন। কিন্তু নিজের প্রাণ হারিয়ে শহিদ হন অংশুমান। এই বছরের ৫ জুলাই তাঁকে কীর্তি চক্র সম্মানে ভূষিত করা হয় (Martyr Captain Anshuman Singh Parents Claimed Daughter in Law took the Award)। বীরত্বের ক্ষেত্রে এই কীর্তি চক্র হল ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান।

অংশুমানের মরণোত্তর সেই সম্মান গ্রহণ করতে রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী স্মৃতি সিং ও মা মঞ্জু দেবী। কিন্তু অংশুমানের পরিবারের অভিযোগ, ছেলের সেই মরণোত্তর সম্মান নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছেন পুত্রবধূ। এমনকি, ছেলের সমস্ত সরকারি নথিপত্রের জায়গায় ঠিকানাও বদলে দিয়েছেন স্মৃতি। সব জায়গায় নিজের বাপের বাড়ির ঠিকানা দিয়েছেন তিনি যাতে সেনা কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ করেন। অংশুমানের ছবি, যাবতীয় জিনিসপত্রও সব নিয়ে গিয়েছেন স্মৃতি এমনটাই অভিযোগ (Martyr Captain Anshuman Singh Parents Claimed Daughter in Law took the Award)

এক সংবাদমাধ্যমে শহিদ ক্যাপ্টেন অংশুমানের বাবা জানান, “আমার ছেলেকে মরণোত্তর কীর্তি চক্র সম্মান দিলেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু সেই মেডেল একবার ছুঁয়েও দেখতে পেলাম না” (Martyr Captain Anshuman Singh Parents Claimed Daughter in Law took the Award)

অংশুমানের মায়ের কথায়, “আমার পুত্রবধূ খুব ভাল ছিল। বিয়ের পর আমার ছেলে যখন ডিউটিতে বাইরে ছিল, আমাদের সঙ্গে ও চার মাস ছিল। এরপরে একদিন ফোন আসে। আমার ছেলের মৃত্যু সংবাদ পাই। ওই ঘটনার ১৩ দিন পর্যন্ত দেওরিয়ার বাড়িতেই ছিল স্মৃতি। এরপর একদিন ওর পরিবার থেকে বলা হয়, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছে ওকে। তাড়াতাড়িই ফিরে আসবে ও। কিন্তু তারপর আর স্মৃতি ফেরেনি আমাদের কাছে”।

মঞ্জু সিং আরও জানান, ছেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে বাড়িতে পুজোপাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তাঁর স্ত্রীর উপস্থিতি আবশ্যক ছিল, তাই তিনি পুত্রবধূকে ডেকেছিলেন। বলেছিলেন যাতে অন্তত একদিনের জন্য স্মৃতি আসেন।  সেই সময় স্মৃতি তাঁকে বলেছিলেন, “মা আমি আসব”। কিন্তু এরপরই নাকি তাঁর নম্বর ব্লক করে দেন স্মৃতি, এমনটাই জানান অংশুমানের মা (Martyr Captain Anshuman Singh Parents Claimed Daughter in Law took the Award)

তিনি আরও জানান, “রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে আসার সময় সেনা আধিকারিকদের অনুরোধে একবার কীর্তি চক্রটা ছুঁয়ে ছবি তুলেছিলাম। তার পরেই ওই মেডেল নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছ স্মৃতি” (Martyr Captain Anshuman Singh Parents Claimed Daughter in Law took the Award)। ছেলেহারা মা-বাবার তাই আর্জি, ছেলের সেই মরণোত্তর মেডেলের একটি রেপ্লিকার যদি ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ছেলের সেই স্মৃতি আঁকড়েই বাঁচতে পারতেন তারা।

আরও অন্যান্য খবর