র‍্যাগিংয়ের জেরে ছাত্রমৃত্যু, খালি হয় মায়ের কোল! বছর ঘুরলেও ফিকে হয়নি স্মৃতি, কলমের মাধ্যমেই ছেলেকে অমর করে রাখলেন নিঃসঙ্গ মা

বছর পেরিয়েও ফিকে হয়নি গত বছরের দিনগুলি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেন হোস্টেলের ছাত্র মৃত্যুতে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য। এখনও ছেলেকে চোখে হারান স্বপ্নদীপের বাবা-মা ও গোটা পরিবার। একই সময়ে, একইভাবে ভিনরাজ্যে পড়তে গিয়ে খালি হয়েছিল অন্য এক মায়ের কোল।

সৌরদীপ চৌধুরী। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে স্বপ্নের উড়ান ধরতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল মেধাবী ছাত্রটি। বি-টেক নিয়ে পড়াশোনার জন্য বিজয়ওয়াড়ার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিল সে। হোস্টেলে থাকার এক সপ্তাহের মধ্যে সৌরদীপের মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা হোস্টেলের ১১ তলা থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ছাত্র।

সৌরদীপের পরিবারের দাবী ছিল, তাদের ছেলে র‍্যাগিংয়ের শিকার। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে এই নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটা হয়েছিল কার্যত। এমনকি ওই ছাত্রের ময়নাতদন্তের আসল রিপোর্টও দেওয়া হয়নি পরিবারকে। একটি কাগজে লিখে দেওয়া হয়েছিল মৃত্যুর কারণ ‘অস্বাভাবিক’। কলকাতায় দ্বিতীয়বার ছেলের ময়নাতদন্ত করাতে চেয়েছিলেন বাবা। কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি। হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছিল সৌরদীপের এই অস্বাভাবিক রহস্য মৃত্যু নিয়ে।  

ইতিমধ্যে কেটে গিয়েছে গোটা একটা বছর। আজও বিচারাধীন তাঁর মামলা। তবে মায়ের কলমে প্রাণ পাচ্ছে নৃশংসতার শিকার সৌরদীপ। প্রয়াত বি.টেক ছাত্র সৌরদীপ চৌধুরীর মা সুদীপা চৌধুরী নিজের ছেলেকে উৎসর্গ করা বই ‘ছোট ছুটকির কেরামতি’। সদ্য বইটি প্রকাশিত হয়েছে কলকাতা বুক প্রেস থেকে। এর আগে এশিয়ান প্রেস প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত “আমার দ্বীপের আলোয় মালায় গাঁথা/ কিছু কথা কিছু ব্যথা” বইটি এবং বার্তা প্রকাশন থেকে ‘একলা মা’ বই দুটি জনপ্রিয় হয়েছে।

Student Death, Midnapore, Bengal Student Dies In Andhra Hostel

কী থাকছে ‘ছোট ছুটকির কেরামতি’তে?

কলমের মাধ্যমেই ছেলেকে সকলের মনে বাঁচিয়ে রাখতে চান সৌরদীপের মা সুদীপা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের ডাকনাম ছিল ‘ছোট’। এই বইটিতে তিনি ছোটবেলার নানান অভিজ্ঞতা, শিক্ষামূলক ও আনন্দের গল্পের সংকলন যুক্ত করেছেন। তিনি চান, আগের বইগুলির মতো এই বইটিও পাঠকরা ভালোবেসে পড়ুক।

র‍্যাগিংয়ের জেরে ছাত্রমৃত্যু, খালি হয় মায়ের কোল! বছর ঘুরলেও ফিকে হয়নি স্মৃতি, কলমের মাধ্যমেই ছেলেকে অমর করে রাখলেন নিঃসঙ্গ মা

এই মুহূর্তে, সৌরদীপের মামলা অমরাবতী হাইকোর্টে বিচারাধীন। ‘লড়াইয়ের শেষ’ দেখে ছাড়তে চান সৌরদীপের বাবা ডক্টর সুদীপ চৌধুরী। হাইকোর্টে নিজের চেম্বারে বইটি প্রকাশ করেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। সুদীপা চৌধুরীর লেখা দুটি বই ইতিমধ্যেই পাঠকদের মন জয় করেছে। এশিয়ান প্রেস প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত “আমার দীপের আলোয় মালায় গাঁথা/ কিছু কথা কিছু ব্যথা” এবং বার্তা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত “একলা মা” বই দুটি জনপ্রিয় হয়েছে।

Student Death, Midnapore, Bengal Student Dies In Andhra Hostel

বইটি ছোটোদের জন্য লেখা হলেও এই বই বড়দের মনেও দাগ কাটবে বলে আশাবাদী সৌরদীপের মা সুদীপা চৌধুরী। তাঁর কথায়, বড়দের মনের মধ্যেও ছোটবেলা বাস করে। এই বই তাঁদেরও ভালো লাগবে বই প্রকাশের দিন তিনি বলেন, “আমি চাই আগের দুটি বইয়ের মতো এই বইও পাঠকদের ভালো লাগুক। আর চাই আমার কোল যেভাবে খালি হয়েছে, অন্য কোনও মায়ের কোল যেন সেইভাবে কখনও খালি না হয়। সকলের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য”।

RELATED Articles