‘টাকা উপার্জন সবাই করে, কিন্তু সম্মান…’ কেন শুধুমাত্র মা, ঠাকুমার চরিত্রে অভিনয় করেন ফরিদা জালাল? অভিনেত্রী জানালেন আসল কারণ কী?

ফরিদা জালাল, যিনি ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ এবং ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর মতো বিখ্যাত সিনেমায় অভিনয় করেছেন, তিনি সব সময় নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। তবে তিনি জানালেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি অনেক কিছু সীমাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। এক সময় তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে কিছু নির্দিষ্ট চরিত্রের বাইরে তিনি অভিনয় করবেন না। ফরিদার মতে, টাকা উপার্জন করা সহজ, কিন্তু সম্মান এবং মর্যাদা অর্জন করতে প্রচুর ত্যাগ করতে হয়।

এক সাক্ষাৎকারে ফরিদা জানিয়েছেন, তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বেশিরভাগ সময় নায়ক-নায়িকার চরিত্র নয়, বরং নায়কের বোন বা পরিবারের অন্য সদস্যের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনোই নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কারণ, সেই সময়ে নায়িকাদের মূল কাজ ছিল গান গাওয়া এবং বিশেষ কিছু দৃশ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। তবে বোনের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারতেন, যা তাঁকে বিশেষভাবে সন্তুষ্ট করত।

ফরিদা আরও জানান, তাঁর কেরিয়ারে করণ জোহর ও আদিত্য চোপড়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বারবার বলেছিলেন যে এই দুই পরিচালকের সিনেমায় কাজ করার মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার অনেক এগিয়েছে। ফরিদার মতে, এই পরিচালকদের সঙ্গেই তিনি সেরা সিনেমাগুলোর অংশ হয়েছেন এবং তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। বিশেষত, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ এবং ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এর মতো সিনেমা আজীবন দর্শকদের মনে থাকবে।

তিনি বলেন, “আমি জীবনে অনেক কিছু অর্জন করেছি, তবে সম্মান এবং মর্যাদা অর্জন করা সবচেয়ে বড় ব্যাপার।” তিনি আরো জানান, তাঁর ক্যারিয়ারে যে ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তাতে কখনওই তিনি এমন কিছু করেননি যা তাঁর মর্যাদার সঙ্গে আপোস করত। প্রতিটি চরিত্রে নিজের সাধ্যমতো সেরা অভিনয় করেছেন, আর তাই দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন।

ফরিদার মতে, আজও তিনি অভিনয় করছেন এবং দর্শকদের ভালোবাসা পাচ্ছেন, যা তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার। সিনেমা জগতের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়ার জন্য তিনি সব সময় নিজের সীমা ও শর্ত মেনে কাজ করেছেন, আর সেই পথেই তিনি আজও সফল। তিনি জানালেন, এখন তিনি কেবল কাজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং আশা করছেন যে আরও নতুন সুযোগ আসবে।

RELATED Articles