দেখতে পান না দু’চোখেই, কিন্তু সচল দুই হাত দিয়েই কাঠে ফুটিয়ে তোলেন নকশা, ছেনি-হাতুড়ি হাতে অনিলবাবু যেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা

Blind Man Is Skilled in Woodworking: দু চোখে দেখতে পান না, তাতে কোন বাধা নেই। দুটো হাত তো সচল। দুটো হাত দিয়ে কাঠের নিখুঁত কাজ করে বাংলার দৃষ্টিহীন মানুষ হয়ে উঠেছেন বিশ্বকর্মা। হুগলির পান্ডুয়ার অনিল দাস (Anil Das), দৃষ্টিহীন হওয়া সত্ত্বেও বিগত ৪৫ বছর ধরে খেটে খাচ্ছেন তিনি। আজ যেখানে বেশিরভাগ মানুষ বাসে, ট্রেনে সুযোগ পেলেই হাত পেতে দাঁড়িয়ে পড়েন, খেটে খেতে চান না, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অনিল বাবুর লড়াইটা শুনলে সকলের চোখে জল আসবে (Blind Man Is Skilled in Woodworking)

এই মানুষটা শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে, ৪৫ বছর ধরে কাঠের কাজ করে চলেছেন। তিনি বাংলার এক দৃষ্টান্ত। এক চিলতে টালির ঘর। সেই ঘরে বসেই এক মনে কাঠের কাজ করছেন অনিলবাবু (Anil Das)। অনিল বাবুর বাবা কাঠের কাজ করতেন। বাবার মুখ থেকে শুনে শুনেই কাঠের কাজ শিখেছিলেন অনিল বাবু। অনিল বাবুর বাবা চাইতেন না ছেলে এসব কাজ করুক। অনিল বাবু বলেন, “বাবা আমার কাঠ কাটতে দেখলেই রেগে যেতেন। চোখে দেখতে পাই না বলে ভাবতেন যদি অঘটন ঘটিয়ে ফেলি। আমি মনের জোরে কাজ করতাম আর এভাবেই কাজ শিখেছি” (Blind Man Is Skilled in Woodworking)

সেই ১৫ বছর বয়সে কাঠের কাজে হাতেখড়ি অনিল বাবুর (Anil Das)। আজও সেই কাজ করে চলেছেন। অন্য কিছু করার সুযোগ জীবন তাকে দেয়নি। তবুও হেরে যাননি মানুষটা। মাঝখানে অনেক বছর কেটে গেলেও অনিল বাবুর হাত থেকে নামেনি ছেনি-হাতুড়ি। টালির ঘরে বসেই অনিল বাবু বানিয়ে চলেছেন গোপালের খাট, জলচৌকি, সিংহাসন আরও কত কি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, তবে হাতের বিরাম নেই। অনিল বাবুর তৈরি নানা কাঠের সামগ্রী বাড়ির অন্দরমহলে স্থান পেয়েছে। অনিল বাবুর কাছে দুজন কাজ করেন বর্তমানে। তাদের হাতে ধরে কাজ শিখিয়েছেন দৃষ্টিহীন অনিল বাবু (Blind Man Is Skilled in Woodworking)

নিজের অন্ন সংস্থানের পাশাপাশি অন্যান্যদের রুটি রুজির ব্যবস্থা করছেন অনিল বাবু (Anil Das)। একজন দৃষ্টিহীন মানুষের কাঠের শিল্প সারা বাংলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। অনিল বাবুর একমাত্র পরিচয় তার হাতের কাজ। বর্ধমান, চন্দননগর বিভিন্ন জায়গা থেকে অনিল বাবুর কাজের বরাত আসে। দিনে ৫০ টার কাছাকাছি সিংহাসন বানান অনিলবাবু। কাঠ কাটা থেকে পেরেক মারা সবেতেই সাবলীল অনিল বাবু (Blind Man Is Skilled in Woodworking)

অনিল বাবুর (Anil Das) কর্মচারীরা বলেন আন্দাজে আন্দাজে কাজ করেন কিন্তু একেবারে নিখুঁত করেন। এত বছর কাজ করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। অনিলবাবু শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে দূরে রেখে এগিয়ে চলেছেন। কারোর কাছে হাত পেতে বাঁচতে চাননি তিনি। তাই তার অচল চোখ, সচল হাত দুটোকে আটকাতে পারেনি (Blind Man Is Skilled in Woodworking)

RELATED Articles