সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sourav Ganguly) প্রচারে উদ্বুদ্ধ হয়ে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন অনেকে। কিন্তু বর্তমানে তাদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুত সুবিধা না পেয়ে এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টায় প্রতারিত হচ্ছেন। এই সমস্যার সমাধানের জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আবাসিকরা। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসাবে সৌরভের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিতে হবে।
মহেশতলা থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ১২৭ জন আবাসিকের সই রয়েছে। অভিযোগকারীরা মহেশতলার ১ নম্বর বাটানগর রোডের আবাসনের বাসিন্দা। ২০১৩ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল এবং ২০১৫ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সৌরভ (Sourav Ganguly), দেব এবং প্রকল্পের মালিকের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করেন। আবাসন প্রকল্পের সাথে ফিল্ম সিটি, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ও হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে, খবরের কাগজে এবং পোস্টারে প্রকল্পের প্রচার শুরু হয়। সৌরভের কথা এবং আস্থায় ভরসা করে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন আবাসিকরা।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিশ্রুত সুবিধাগুলি পূরণ হয়নি। প্রকল্পের প্রথম দফার কাজ ২০১৭ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তা এখনও অসম্পূর্ণ। আবাসনের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে জলের সংকট, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব, সিসি ক্যামেরার কমসংখ্যা এবং লিফ্ট বিকল হয়ে পড়া উল্লেখযোগ্য। লিফ্টে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগপত্রে আবাসিকরা জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অর্থও পাননি। ২০১৭ সালে ফ্ল্যাট পাওয়ার কথা থাকলেও, এখনও অনেকেই ফ্ল্যাট পাননি বা দেরিতে পেয়েছেন। উল্টে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ক্রেতার থেকে নেওয়া টাকা ফেরত না দিয়ে চুক্তি বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবাসন বসবাসের উপযুক্ত নয়। ২০১৫ সালে ফ্ল্যাট কিনে অনেকে কম দামে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। আবাসিকরা মনে করেন, মালিক পক্ষের পাশাপাশি সৌরভও এর দায় এড়াতে পারেন না। তাঁদের প্রতারিত করা হয়েছে দাবি করেই প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছেন ফ্ল্যাটমালিকেরা। কাজি মাসুম আখতার, যিনি অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, আনন্দবাজার অনলাইনকে বলেন, “সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) বলেছিলেন, এটা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। তাঁর কথা শুনে আমরা ফ্ল্যাট কিনেছি। এখন এই পরিস্থিতিতে তাঁরও দায় বর্তায়। আমরা এর প্রতিকার চাই।”
আবাসিকদের অভিযোগ পাওয়ার পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sourav Ganguly) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, “আমি ওই প্রকল্পের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলাম, কিন্তু প্রকল্পের সঙ্গে আমার আর কোনও সম্পর্ক নেই। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসাবে যে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা ছিল, তা এখনও পাইনি।”






