আর জি করের ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে ২৩ দিন। এখনও বিচার পায়নি তিলোত্তমা। ন্যায় বিচারের দাবীতে গোটা রাজ্য উত্তাল। দিকে দিকে বইছে প্রতিবাদের হাওয়া। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই, একটাই দাবী সকলের। সোমবার লালবাজার অভিযান করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। কিন্তু তাদের মিছিলে বাধা দিলে রাস্তায় বসেই অবস্থান বিক্ষোভে সামিল তারা।
আর জি করের ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এরই সঙ্গে আবার ১৪ আগস্ট রাতে আর জি করে দুষ্কৃতীদের যে হামলা হয়, সেই ঘটনাতেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ তারা। সেই কারণেই পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবী আজ লালবাজার অভিযান তাদের।
চিকিৎসকদের অভিযোগ, আর জি করে হামলার ঘটনা কেন ঠেকাতে পারল না পুলিশ। যারা এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে, তারা আসলে কে? তাদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল? কার বা কাদের নির্দেশে সেদিন ভাঙচুর চলেছিল, এই সব প্রশ্নের উত্তর চান জুনিয়র চিকিৎসকরা। কিন্তু তা মেলেনি। সেই কারণেই আজকের এই অভিযান।
কিন্তু তাদের এই মিছিল আটকায় পুলিশ। গার্ডওয়াল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় ফিয়ার্স রোড ও বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রীট। ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান নি চিকিৎসকরা। বরং তারা ব্যারিকেড ওপারে বসেই অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবী, সিপি এসে তাদের সঙ্গে কথা না বললে তারা সেখান থেকে নড়বেন না। হয় সিপিকে পদত্যাগ করবে হবে না হলে তাদের কাছে এসে ডেপুটেশন জমা নিতে হবে।
এদিন পুলিশের তরফে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, চিকিৎসকদের ২০ জনের প্রতিনিধি দলকে লালবাজারের ভিতরে যেতে দেওয়া হবে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানেন নি। তাদের একটাই দাবী, মিছিলকে এগোতে দিতে হবে আর তা নাহলে সিপি না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।
এক আন্দোলনরত চিকিৎসকের অভিযোগ, “আগে পুলিশ জানিয়েছিল বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট এবং বিবি গাঙ্গুলি ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল যেতে দেওয়া হবে। কিন্তু এখন বেঁকে বসেছে পুলিশ”।
আন্দোলনকারী আরও এক চিকিৎসক বলেন, “যতক্ষণ না সিপি এসে ডেপুটেশন জমা নেবেন, নয়ত বা ওইখানে বসে ইস্তফা দেবেন। ততক্ষণ এখানে বসে থাকব। যদি আমায় একা বসে থাকতে হয় একাই বসে থাকব। আমরা ভিতরে যাব। আমাদের ডেপুটেশন জমা নিতে হবে। যদি না হয়, তাহলে সিপিকে আসতে হবে”।
আরও পড়ুনঃ বিনীত গোয়েলের মেরুদণ্ড বিকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবীতে প্রতীকী মেরুদণ্ড ও লাল গোলাপ নিয়ে লালবাজার অভিযান জুনিয়র চিকিৎসকদের
এই প্রসঙ্গে ডিসি ট্র্যাফিক রুপেশ কুমার বলেন, “ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে এই এলাকায়। তা ছাড়া এমনিতেও অতীতে সব মিছিল বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটেই আটকানো হত”।






