‘৩৬ ঘণ্টা-৪৮ ঘণ্টা ডিউটি করা ডাক্তার আমরা, আমরা ভয় পাই না’, সিপি-র পদত্যাগের দাবীতে অনড়, অ্যাডিশনাল সিপি-কে জানালেন জুনিয়র চিকিৎসকরা

আর জি কাণ্ডে গর্জে উঠেছে গোটা রাজ্য তথা দেশ। এই মুহূর্তে সকলের মুখে একটাই দাবী, ন্যায় বিচার চাই। আসল দোষীদের শাস্তি চাই। আজ, সোমবার লালবাজার অভিযান করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবী জানিয়েছেন তারা। তাদের মিছিল আটকালে রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভে অনড় তারা। অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেও মিলল না কোনও রফাসূত্র।

আর জি করের ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এরই সঙ্গে আবার ১৪ আগস্ট রাতে আর জি করে দুষ্কৃতীদের যে হামলা হয়, সেই ঘটনাতেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ তারা। সেই কারণেই পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবী আজ লালবাজার অভিযান তাদের।

কিন্তু তাদের এই মিছিল আটকায় পুলিশ। গার্ডওয়াল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় ফিয়ার্স রোড ও বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রীট। ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান নি চিকিৎসকরা। বরং তারা ব্যারিকেড ওপারে বসেই অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবী, সিপি এসে তাদের সঙ্গে কথা না বললে তারা সেখান থেকে নড়বেন না। হয় সিপিকে পদত্যাগ করবে হবে না হলে তাদের কাছে এসে ডেপুটেশন জমা নিতে হবে।

এদিন পুলিশের তরফে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, চিকিৎসকদের ২০ জনের প্রতিনিধি দলকে লালবাজারের ভিতরে যেতে দেওয়া হবে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানেন নি। তাদের একটাই দাবী, মিছিলকে এগোতে দিতে হবে আর তা নাহলে সিপি না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।    

এরপর তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার। জুনিয়র চিকিৎসকদের তিনি বলেন যাতে তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি লালবাজারে গিয়ে কথা বলেন। কিন্তু তাতে রাজি হন না চিকিৎসকরা। তাদের কথায়, তারা সকলেই এক। আলাদা কোনও দল নেই। তাদের সকলকেই যেতে দিতে হবে। তবে রাজি হন নি এসিপি। তারা জানান, তারা আলোচনা করে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসকদের জানাবেন পরবর্তী পদক্ষেপ।

আরও পড়ুনঃ ‘পুলিশ কমিশনার না আসা পর্যন্ত এখান বসে থাকব’, মিছিল আটকালে রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভ জুনিয়র চিকিৎসকদের, পদত্যাগ করবেন বিনীত গোয়েল? 

জুনিয়র চিকিৎসকরা নিজেদের দাবীতে অনড়। তারা জানান, যদি প্রয়োজন পড়ে গোটা রাত কেন, তারা ২ দিনও অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। তারা জানাচ্ছেন, “আমরা ৩৬ ঘণ্টা-৪৮ ঘণ্টা ডিউটি করা ডাক্তার। আমরা অপেক্ষা করতে ভয় পাই না। আমাদের সময়ের ভয় দেখানো যাবে না”। পুলিশের এবার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই দেখার। চিকিৎসকদের দাবী কী মেনে নেওয়া হবে নাকি তাদের উপরও লাঠিচার্জ করে তাদের হটিয়ে দেওয়া হবে, এখন সেটাই দেখার!

RELATED Articles