নাবালিকাকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর চেষ্টা, অভিযুক্ত জওয়ানকে ২৫ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত

আর জি কাণ্ডের জেরে গোটা রাজ্যে আগুন জ্বলছে। দিকে দিকে গড়ে উঠেছে প্রতিবাদ। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমে আন্দোলন করছেন নানান স্তরের মানুষ। ন্যায় বিচারের দাবী সকলের। এরই মধ্যে এবার এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর চেষ্টার অভিযোগে এক সেনা জওয়ানকে ২৫ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হল আদালতের তরফে।

ঠিক কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

ঘটনাটি জলপাইগুড়ির। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২২ সালে এক নাবালিকার বাবার বন্ধু যিনি সেনা জওয়ান, তিনি ধর্ষণ করেন নাবালিকাকে। এই বিষয়টি কাউকে যাতে সে না জানায়, তার জন্য দেওয়া হয় হুমকি। গর্ভনিরোধক ওষুধও খাওয়ানো হয় ওই নাবালিকাকে। ভয়ের জেরে সেই সময় কাউকে কিছু বলে নি নাবালিকা।

কিন্তু কিছুদিন পরই রক্তপাত শুরু হয় নির্যাতিতার। তখন জানা যায়, গর্ভনিরোধক ওষুধের ফলেই এই রক্তপাত। এরপর নাবালিকা গোটা বিষয়টি জানায় বাড়িতে। নাবালিকার পরিবারের তরফে জলপাইগুড়ি বানারহাট থানার অধীনে থাকা বিন্নাগুড়ি ফাঁড়িতে ওই সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালতে বিচারক ইন্দিবর ত্রিপাঠীর এজলাসে শুনানি চলে এই মামলার। নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ-সহ ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর অভিযুক্ত সেনা জওয়ানকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় দায়রা আদালত। সঙ্গে এক লক্ষ টাকা জরিমানার অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্যাতিতাকে ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ বিশেষ পকসো আদালতের।

আরও পড়ুনঃ ‘পুলিশ নিশ্চয় কিছু ভুল করেছে, নাহলে মানুষের ক্ষোভ এত বাড়ত না…’, পুলিশের খামতি ধরলেন প্রাক্তন আইপিএস তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর  

এই ঘটনায় এই মামলার সহকারী সরকারি আইনজীবী দেবাশিস দও জানান, “২০২২ সালে আসামি নিজের বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। সেই সময় নির্যাতিতা নবম শ্রেণিতে পড়ত। আদালত সব দিক খতিয়ে দেখে সেনা জওয়ানের ২৫ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে”। অন্যদিকে, অভিযুক্তের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন তারা।  

আরও অন্যান্য খবর