আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে গোটা রাজ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নানান প্রান্তে চলছে আন্দোলন-বিক্ষোভ। ন্যায় বিচারের দাবীতে পথে নেমেছে সকল স্তরের মানুষ। এমন আবহে এবার আর জি কাণ্ডের প্রতিবাদে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন জহর সরকার। তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়লেন তিনি। রাজ্য সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে রাজনীতি থেকেও বিদায়ের ঘোষণা করলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চিঠি লিখেছেন জহর সরকার। এই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমি গত এক মাস ধৈর্য ধরে আরজি কর হাসপাতালের ঘৃণ্য ঘটনার বিরুদ্ধে সবার প্রতিক্রিয়া দেখেছি আর ভেবেছি, আপনি কেন সেই পুরনো মমতা ব্যানার্জির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সরাসরি জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলছেন না। এখন সরকার যে সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা এককথায় অতি অল্প এবং অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে”।
আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদী আন্দোলনকে বাম-বিজেপির আন্দোলন বলে দেগেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে তাঁর দলের নেতা-নেত্রীরাও সেই একই ওঠে হাঁটেন। তাদের দাবী, বাম-রাম এই প্রতিবাদ করে সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলছে। নিজের দলের এই ঘটনার প্রবল নিন্দা করেছেন জহর রায়।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, “আমার বিশ্বাস, এই আন্দোলনে পথে নামা মানুষেরা অরাজনৈতিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রতিবাদ করছেন। অতএব রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা সমীচীন হবে না। এঁরা কেউ রাজনীতি পছন্দ করেন না। শুধু একবাক্য বিচার ও শাস্তির দাবী তুলেছেন”।

বলে রাখি, আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন তিনি। এর জন্য বেশ বিপাকেও পড়তে হয়েছিল বটে তাঁকে। কিন্তু প্রতিবাদের পথ থেকে তিনি সরে আসেন নি। এর জন্য তৃণমূলকে বেশ বিড়ম্বনাতেই পড়তে হচ্ছে। আর এরই মাঝে এবার আর জি কর ঘটনা ও সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সাংসদ পদ ছাড়লেন জহর সরকার। এর ফলে যে তৃণমূলের মধ্যে অস্বস্তি আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।





