আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হয়েছে গোটা রাজ্য-সহ দেশ। দোষীদের উপযুক্ত ও কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার দাবী উঠেছে সমস্ত মহল থেকে। এরই মধ্যে আর জি কাণ্ডের প্রতিবাদ ও রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তৃণমূল সাংসদের পদ ছেড়েছেন জহর সরকার। রাজনীতিকেও বিদায় জানিয়েছেন তিনি। এবার এই নিয়েই প্রতিক্রিয়া জানানো হল তৃণমূলের তরফে। আরও একজনকেও ইস্তফা দেওয়ার বার্তা দেওয়া হল পক্ষান্তরে। কে সেই তৃণমূল নেতা?
আজ, রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন জহর সরকার। সেই চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় কীভাবে তাঁকে দলের একাংশের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল। দলের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের জীবনযাপনের বাহুল্য নিয়েও প্সহ্ন তোলেন তিনি।
চিঠিতে জহর সরকার লিখেছেন, “আমি গত এক মাস ধৈর্য ধরে আরজি কর হাসপাতালের ঘৃণ্য ঘটনার বিরুদ্ধে সবার প্রতিক্রিয়া দেখেছি আর ভেবেছি, আপনি কেন সেই পুরনো মমতা ব্যানার্জির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সরাসরি জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলছেন না। এখন সরকার যে সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা এককথায় অতি অল্প এবং অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে”।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, “আমার বিশ্বাস, এই আন্দোলনে পথে নামা মানুষেরা অরাজনৈতিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রতিবাদ করছেন। অতএব রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা সমীচীন হবে না। এঁরা কেউ রাজনীতি পছন্দ করেন না। শুধু একবাক্য বিচার ও শাস্তির দাবী তুলেছেন”।
তাঁর এই ইস্তফার কথা প্রকাশ্যে আসার পরই প্রতিক্রিয়া জানানো হল তৃণমূলের তরফে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবাংশু ভট্টাচার্য লিখেছেন, “একজন ছেড়েছেন, আরেকজনও ছাড়ুন। স্রোতের অনুকূলে তো কচুরিপানাও ভাসে, যদি উল্টো দিকে সাঁতার কাটতে নাই পারলেন তাহলে মানুষ জন্ম বৃথা! যুদ্ধের সময় যারা পালায় কিংবা গা বাঁচিয়ে চলে, ইতিহাস তাদের লজ্জার নজরে দেখে”।
এখানে প্রশ্ন উঠছে যে আরেক জন বলতে কার কথা বলা হয়েছে। তবে অনেকেরই ধারণা, দেবাংশুর ইঙ্গিত তৃণমূলের আস্র এক সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের দিকেই। আর জি কর ঘটনায় প্রথম থেকেই সরব হয়েছিলেন তিনি। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি, সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হওয়ার পরও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন। ফলে তিনিও যে তৃণমূল ছাড়তে পারেন, তেমনটাই মনে করা হচ্ছিল আগেই। ফলে দেবাংশুও তাঁর কথাই বলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ ও রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়লেন জহর সরকার, বিদায় রাজনীতিকেও
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য দেবাংশুর হতে পারে না। দলের সোশ্যাল মিডিয়ার সেলের প্রধান কখনও কোনও নেতাকে ইস্তফা দিতে বলতে পারেন না। দেবাংশুর মাধ্যমে তৃণমূলই এই বার্তা দিতে চাইছে বলে দাবী রাজনৈতিক মহলের একাংশের।





