আর জি কর হাসপাতালে (R G Kar Hospital) তরুণী চিকিৎসককে ধ’র্ষণ এবং খু’নের ঘটনায় জুনিয়র চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই আঙ্গুল তুলেছেন ওই হাসপাতালেরই প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের দিকে। গত ২ আগস্ট আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সিবিআই (CBI) গ্রেফতার করে সন্দীপকে। হাসপাতালে আরও কিছু বেআইনি কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন সন্দীপ ঘোষ বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে। যার মধ্যে আছে পর্নোগ্রাফি চক্র থেকে বেআইনি পাচার চক্র। এবার সেই সন্দীপ ঘোষের স্ত্রী-র বিরুদ্ধেও উঠল অভিযোগ।
আর জি করে কোনওরকম আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কী না, সেই ব্যাপারে তদন্ত করছে ইডি। মঙ্গলবার ইডির তরফ থেকেই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে গত ৬ সেপ্টেম্বর ইডির কলকাতার শাখার তরফে সাতটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল সন্দীপ ঘোষ এবং তার খুব নিকট আত্মীয়দের এবং ঘনিষ্ঠদের বাড়ি।
এই অভিযানের পরেই সন্দীপ ঘোষের স্ত্রীর ওপর অভিযোগ উঠেছে যে তিনি সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সম্পত্তির মালকিন হয়েছেন। মঙ্গলবার ইডির তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে সন্দীপের স্ত্রীর নামে এমন দুটি সম্পত্তি আছে যার কোনও সরকারি অনুমোদন নেই।
ইডি তদন্তকারীরা দাবি করেছেন সরকারি কোনরকম অনুমোদন ছাড়াই দুটি সম্পত্তির ওপর মালিকানা কায়েম করে রেখেছেন সন্দীপ ঘোষের স্ত্রী সঙ্গীতা ঘোষ। ২০২১ সালে ওই সম্পত্তি কেনার জন্য একটি পোস্ট ফ্যাক্টো অ্যাপ্রুভাল দেওয়া হয় সন্দীপ ঘোষের তরফ থেকে। এই ঘটনা যখন ঘটে তখন সন্দীপ ঘোষ আর জি করের অধ্যক্ষ এবং তার স্ত্রী আর জি করের সহকারী অধ্যাপিকা পদে ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ নবান্ন-জুনিয়র চিকিৎসকদের স্নায়ুযুদ্ধ! লাইভ স্ট্রিমিং না হলে বৈঠকে যোগ নয়, দাবীতে অনড় চিকিৎসকরা, দেড় ঘণ্টা ধরে নবান্ন সভাঘোরে অপেক্ষারত মমতা
ইডির তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অভিযান চালিয়ে ঘোষ দম্পতির একাধিক সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। তারা যে নথি উদ্ধার করেছেন সেখান থেকে জানা গেছে কলকাতায় তিনটি এবং মুর্শিদাবাদে একটি ফ্ল্যাট আছে ঘোষ দম্পতির নামে। এছাড়াও কলকাতায় তাদের নামে বাড়ি আছে দুটি। ঘোষ দম্পতির মালিকানাধীন একটি খামার বাড়িরও হদিশ পাওয়া গেছে। এইসব নথিতে আরও বেশ কিছু সম্পত্তির উল্লেখ আছে যেগুলি কিনতে অপরাধের আশ্রয় নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করছেন ইডির তদন্তকারীরা।






