‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে প্রতিদিনই নতুন করে তৈরি হচ্ছে বিতর্ক। কখনও প্রতিযোগীদের মধ্যে মনোমালিন্য, কখনও আবার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে চর্চা। এই মুহূর্তে দর্শকদের নজরের কেন্দ্রে রয়েছেন নন্দিনী দত্ত এবং রাজবীর দে। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনই অভিনেতা জিতু কমলের সঙ্গে সংঘাতও শোয়ের উত্তাপ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ‘দাদার দরবারে’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছেও কড়া কথা শুনতে হয়েছে নন্দিনী ও রাজবীরকে। আর এই সমস্ত ঘটনার মাঝেই এবার মুখ খুললেন নন্দিনীর বাবা।
জিতু কমলকে নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন নন্দিনীর বাবা। অভিনেতার আচরণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, জিতুকে বোঝা বেশ কঠিন। কখন তিনি কী করবেন, তা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। কখনও তাঁকে খুব ভালো মানুষ বলে মনে হয়, আবার কখনও তাঁর আচরণে অন্য ছবি ধরা পড়ে। নন্দিনীর বাবার কথায়, জিতু কখনও সাধু, আবার কখনও ভণ্ড বলে মনে হয়। বিশেষ করে গলায় রুদ্রাক্ষের মালা পরে ধ্যান বা মেডিটেশন করার পরেও কীভাবে কারও মধ্যে এমন রাগ থাকতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে নন্দিনী ও রাজবীরের বকুনি খাওয়ার ঘটনাও বেশ প্রভাব ফেলেছে তাঁর পরিবারের উপর। নন্দিনীর বাবা জানিয়েছেন, সেদিনের ঘটনার পর তিনি এবং নন্দিনীর মা সারারাত ঘুমোতে পারেননি। মেয়েকে প্রকাশ্যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাঁরা। বিশেষ করে নন্দিনীর মায়ের উপর এই ঘটনার প্রভাব এতটাই পড়েছিল যে তিনি প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবার কথায়, মেয়েকে নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বাবা-মায়ের মনেও তার গভীর প্রভাব পড়ে।
তবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে কোনও নেতিবাচক মনোভাব নেই নন্দিনীর বাবার। বরং পরে বিষয়টি নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবার পর তাঁর মনে হয়েছে, প্রতিযোগীদের ভালোর জন্যই তাঁদের সতর্ক করেছিলেন সৌরভ। তাঁর মতে, রাজবীর যাতে এমন কোনও ভুল না করেন, যার জন্য তাঁকে শো থেকে বেরিয়ে যেতে হয়, সেই কারণেই এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। গোটা পর্বে নন্দিনী ও রাজবীরকে নিয়ে এত আলোচনা হওয়াকে তিনি তাঁদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘সবটা দেখিয়ে দিলে…’, কাঞ্চনার ভাইরাল ফটোশ্যুট নিয়ে পল্লবীর মন্তব্যে নতুন চর্চা!
নন্দিনীর বাবার মতে, একজন কোচের কাজ যেমন খেলোয়াড়কে সঠিক পথে রাখা, তেমনই একজন সঞ্চালকেরও দায়িত্ব প্রতিযোগীদের ভুল ধরিয়ে দেওয়া। খেলোয়াড় ভুল করলে কোচ চুপ করে থাকতে পারেন না। তাই সৌরভ এবং চ্যানেল যে সময় দিয়ে তাঁদের সতর্ক করেছেন, তার পিছনে প্রতিযোগীদের ভালো চাওয়ার মনোভাবই রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।






