আর জি কর ঘটনা নিয়ে রহস্য যেন বেড়েই চলেছে। গতকাল, শনিবার টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল ও আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সন্দীপ ঘোষকে সিবিআই আগেই গ্রেফতার করলেও এবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে। সেই একই অভিযোগে গ্রেফতার টালা থানার ওসি-ও।
এই দু’জনের মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে বলেই অনুমান সিবিআইয়ের। আজ, রবিবার টালা থানার ওসিকে পেশ করা হয় শিয়ালদহ আদালতে। সেখানেই নানান দাবী করে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কথায়, টালা থানার ওসিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর বয়ানে নানান অসঙ্গতি মিলেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্তে গাফিলতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ সিবিআইয়ের।
সিবিআই জানতে চায়, কার বা কাদের নির্দেশে এই গাফিলতি করা হয়েছে। সিবিআই এও দাবী করে, সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসির মধ্যে কোনও না কোনও যোগসূত্র থাকতে পারে। সিবিআই সূত্রে খবর, ৯ আগস্ট অর্থাৎ তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর দিন সকালে এই দু’পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে। কী নিয়ে কথা হয়েছে, তা তদন্ত করছে সিবিআই।
আদালতে সিবিআইয়ের দাবী, তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনা টালা থানার ওসি জানতে পারেন সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে কিন্তু তাহলে এফআইআর দায়ের করতে রাত সাড়ে ১১টা কেন বেজে গেল। সেদিন একাধিকবার ফোনে কথা হয় সন্দীপ ও ওই ওসির মধ্যে। সিবিআইয়ের অনুমান, সন্দীপের নির্দেশের সব কাজ করেছেন টালা থানার ওসি। কোনও কী লোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল? উঠছে প্রশ্ন।
সিবিআই এদিন আদালতে জানায়, টালা থানার ওসিকে জেরায় জানা গিয়েছে ঘটনার দিন অকুস্থলে অর্থাৎ সেমিনার রুমে যেখানে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়, সেখানে অবাধে একাধিক লোকজন যাতায়াত করেছে। এর ফলে আসল দোষীর পায়ের ছাপ মেলেনি। এই ঘটনা কী ইচ্ছাকৃতভাবেই ঘটানো হয়েছে, তা জানতে চায় সিবিআই।
আরও পড়ুনঃ টালা থানার ওসির পর এবার সিবিআইয়ের নজরে পুলিশ কমিশনার, বিনীত গোয়েলের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা
এদিন আদালতে টালা থানার ওসিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার অনুমতি চায় সিবিআই। জানা যাচ্ছে, সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসিকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আর কী কী তথ্য উঠে আসে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারা কারা জড়িত বা কোন বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হয়েছে এখানে, সেসবের উত্তর হয়ত মিলতে পারে!






