আর জি কর হাসপাতালে (R G Kar Hospital) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্য। বিচারের দাবীতে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এবং ‘জাস্টিস ফর আর জি কর’ স্লোগানে এক হয়ে গেছে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্ত। রাস্তায় মোমবাতি, মশাল হাতে নিয়ে মিছিল থেকে রাত দখল, এগুলোই এই কদিনে হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাতে মিশে গেছেন অনেক তারকারাও। বর্তমানে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনে (junior doctor’s protest) কেঁপে উঠেছে শহর কলকাতা (Kolkata)।
বর্তমানে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন কিঞ্জল নন্দ। আর জি কর হাসপাতালের ঘটনায় প্রথম থেকেই সরব ছিলেন তিনি। চালিয়ে গেছেন লাগাতার প্রতিবাদ। তবে তাঁর পরিচয় তিনি শুধু চিকিৎসক নন, তার সঙ্গে তিনি একজন অভিনেতাও বটে।
কেপিসি হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পাশ করেন কিঞ্জল নন্দ। বর্তমানে আর জি কর হাসপাতাল থেকেই মাইক্রোবায়োলজিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের পড়াশোনা করছেন। তিনি সেখানকার রেসিডেন্ট ডাক্তারও। তবে শুধু চিকিৎসক নন, পাশাপাশি তিনি একজন অভিনেতাও। নিয়মিত করেন থিয়েটার। টলিউডের বেশ কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে তাঁকে।
২০১৮ সালে ‘হীরালাল’ ছবিতে অভিনয় করে টলিউডেপা রাখেন কিঞ্জল নন্দ। অভিনয়ের দক্ষতায় মন জয় করে নিয়েছেন দর্শকদের। ৮ বাই ১২ বিনয় বাদল দিনেশ, কর্ণসুবর্ণের গুপ্তধন, ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ ইত্যাদি ছবিতে দেখা গেছে তাঁকে। এছাড়াও তাকে বেশ কয়েকটি ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে। বেঙ্গল স্ক্যাম বীমা কান্ড, কাঁটায় কাঁটায় প্রভৃতি ওয়েব সিরিজে দেখা গিয়েছে কিঞ্জলকে। এরপর তাঁকে দেখা যাবে ‘দেবী চৌধুরানী’ ছবিতেও।

গত কয়েকদিন ধরে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছেন কিঞ্জল নন্দ। আন্দোলনকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। অভিনয়ের প্রশংসা তো অনেক পেয়েছেন তবে এবার আন্দোলনকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় প্রশংসা পেয়েছেন আপামর জনতা। তাঁর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ছবি ভিডিও এখন সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল। কিঞ্জল নন্দ এবং তার সহযোদ্ধাদের কুর্নিশ জানাচ্ছে নেটিজেনরা।
কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কান্নায় ভেঙে পড়া জুনিয়র চিকিৎসকদের ছবি দেখেছে গোটা রাজ্য। এর মাঝেই সেদিন রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। সেই ভিডিওতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যভবনে ফিরে এসে সহযোদ্ধাদের জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কিঞ্জল নন্দ। তবে হতাশা কষ্ট কান্না বুকে চেপে রেখে তিলোত্তমার জন্য বিচারের দাবীতে রাস্তা ছাড়ছেন না জুনিয়র চিকিৎসকরা।






