আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভের আগুন। পথে নেমে আন্দোলন জারি সাধারণ মানুষের। ন্যায় বিচারের দাবীতে সরব সকলে। আর জি কর নিয়ে যখন উত্তাল সব দিক, সেই সময় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এক জুনিয়র চিকিৎসকের মৃত্যু নিয়ে তৈরি হল রহস্য। সেই মৃত্যু আদতে কী কোনও দুর্ঘটনা নাকি খুন, তা নিয়ে ধন্ধ। মৃতের পরিবারের দাবী, খুন করা হয়েছে সেই চিকিৎসককে।
ঘটনাটি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের। জানা গিয়েছে, কলেজ হোস্টেলের তিনতলার খোলা বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ওই চিকিৎসকের। কলেজ কর্তৃপক্ষের মতে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হলেও মৃত চিকিৎসকের পরিবারের দাবী, পড়ে গিয়ে মৃত্যু নয় খুন করা হয়েছে তাঁকে। যখন রক্তাক্ত অবস্থায় ওই জুনিয়র চিকিৎসককে উদ্ধার করা হয়, সেই সময় শুধুমাত্র তাঁর পরনে অন্তর্বাসটুকুই ছিল বলে জানান পরিবার।
পরিবার সূত্রে খবর, কলেজের সিনিয়ররা ওই জুনিয়র চিকিৎসককে ডিনারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আর এর ঠিক পরের দিন ভোরেই কলেজ হোস্টেলের নীচে মেলে ওই জুনিয়র চিকিৎসকের মৃতদেহ। ফরেনসিক বিভাগ যায় ঘটনাস্থলে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয় ডামি পুতুল দিয়ে। পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবী করে কিন্তু তদন্তভার যায় সিআইডি-র কাছে। আদালতে মামলা ওঠে তবে বেশিদিন এগোয়নি। এই ঘটনাটি আসলে ২০২১ সালের।
মৃত চিকিৎসকের বাবা জানান, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কোনও অ্যালকোহলের উপস্থিতি মেলেনি। তবে তাঁকে যে খুন করা হয়েছে, এমনটাই দাবী চিকিৎসকের বাবার। তিনি জানান, জুনিয়র চিকিৎসকদের মধ্যে একমাত্র তাঁকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সিনিয়ররা। সেখানেই হয়ত কোনও গণ্ডগোল হয়েছিল। তারপরই মেরে ফেলা হয়েছিল চিকিৎসককে। মৃত ওই চিকিৎসকের নাম শেখ মোবারক হোসেন। পূর্বস্থলী ১ ব্লকের নাদানঘাটের নওপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন তিনি।
ওই চিকিৎসকের বাবা জানান, “সিনিয়রদের সঙ্গে হয়ত কিছু গোলমাল হয়েছিল, তাই মেরে ফেলে। পরে নিচে ফেলে রেখে দেয়। ছেলের গায়ে জামা ছিল না, অন্তর্বাস পরা শুধু। এই অবস্থায় ছেলে পড়তে পারে কখনও”?
তাঁর কথায়, “মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে সরাসরি খবরও দেয়নি। হাসপাতালের এক জুনিয়র পড়ুয়া মারফত খবর আসে। আমাকে জানানো হয় হাসপাতালে ভর্তি। গিয়ে দেখি মারা গিয়েছে। আমি জানতে চাই কী করে এটা হল? ওরা বলেছিল, রাতে পার্টি করেছে। অতিরিক্ত মদ খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করি। বলি ওকে খুন করা হয়েছে। আঘাতের চিহ্ন ছিল শরীরে”।
ভাইয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে পড়ুয়া চিকিৎসকের দাদা শেখ ফিরোজ আহমেদের বক্তব্য, “আমাদের ধারণা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ছাদ থেকে পড়লে মাটিতে দাগ হবে। কোনও দাগ ছিল না। আমি নিজে চোখে তো দেখেছি। আমরা কেস করি। ডেটের পর ডেট দেয়। কিন্তু শুনানি হয়নি কোনও এক অদৃশ্য কারণে। আমার কাকার ছেলে ও। কাকার সেই আর্থিক সামর্থ্য় নেই যে বড় উকিল নিয়ে মামলা লড়বেন”।
আরও পড়ুনঃ ‘একজন মহিলা চিকিৎসককে ছুরি, পেপার স্প্রে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে…’, মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ হাইকোর্টের
এই ঘটনা প্রসঙ্গে চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী (অ্যাসোসিয়েশন অব হেল্থ সার্ভিস ডক্টর রাজ্য যুগ্ম সম্পাদক) বলেন, “এই ঘটনার সময় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন সুহৃতা পাল। অভীক দে ছিলেন ছাত্র নেতা। এরকম ডেডলি কম্বিনেশন। এরা যে কোনও অপরাধ অবলীলায় করে ফেলতে পারে। যাবতীয় যা যা ঘটেছে কোনও কিছুই সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়”।






