‘সবাইকে নিয়ে চলতে হবে…’, আর চড়াম চড়াম নয়, জেলের হাওয়া খেয়ে শান্তরূপ কেষ্টর, জেল কেন খাটতে হল, জানালেন ‘আসল’ কারণ!

মাঝে কেটেছে দুটো বছর। এই দু’বছরে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। তাঁর চেনা বীরভূমেও বদল এসেছে বৈ কী! সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বদল এসেছে কেষ্টর ব্যবহার ও ভাষার প্রয়োগে। আগে তো তাঁর কোনও মন্তব্য মানেই ছিল তা শিরোনাম কাঁপানো। তবে জেল থেকে ফিরে অনেকটাই সংযত অনুব্রত মণ্ডল। এ কী শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে নাকি এমন রূপেও তাঁকে আগামিতেও দেখা যাবে, তা নিয়ে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে অবশ্য অনেক কিছুই।

তাঁর চড়াম চড়াম ঢাক বাজানোর হুঁশিয়ারিই হোক বা গুড়, নকুলদানা, বাতাসা বিলি করার পরামর্শই হোক, সবই একসময় খবরের শিরোনামে দারুণ জায়গা করেছে। তবে সেই গম্ভীর হুঁশিয়ারি দেওয়া কণ্ঠস্বর আর নেই। বরং জেলের হাওয়া খেয়ে তিনি এখন অনেকটাই শান্ত। নাহলে আর তাঁর মুখে শোনা যায়, “সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে হবে। সবাইকে নিয়ে চলতে হবে, একথাটা যেন আমরা ভুলে না যায়”।

গতকাল, বৃহস্পতিবার সর্বসাকুল্যে মেরেকেটে ৪ মিনিট ৩২ সেকেন্ড সাংবাদিক বৈঠক করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। সেখানেই বারবার তাঁর মুখে ‘আমি’ ছেড়ে শোনা গেল ‘আমরা’ কথাটি। এই বৈঠকে ইডি-সিবিআই বা মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বা বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীর কোনও প্রসঙ্গ শোনা গেল না। যেদিন অনুব্রত বীরভূমে ফিরলেন, সেদিন এই মন্ত্রী-বিধায়করা অনুব্রতর চৌকাঠে এলেও দেখা না করেই ফিরতে হয়েছিল তাদের। ফলে তা নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়।

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে অনুব্রত বললেন, “আমি আইনকে ভালবাসি। আদালতকে শ্রদ্ধা করি। কোনও বিতর্কে যাব না”। জেল খাটা প্রসঙ্গে কেষ্ট বললেন, “ইশ্বরের সঙ্গে নিশ্চয়ই কিছু অন্যায় করেছি, সেজন্যই হয়তো শাস্তি পেলাম”। এই কারণেই তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে বলে দাবী অনুব্রতর।

তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই কলকাতা আসবেন চিকিৎসার জন্য। তাহলে কী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে তাঁর? জল্পনা জিইয়ে রেখেই কেষ্ট জানালেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি যাওয়া উচিত বলে আমি তো মনে করি। মেয়েটাকে ১৬ মাস জেল খাটানো হয়েছে। ও তো সাধারণ মেয়ে, কোনও দোষ করেনি”।

আরও পড়ুনঃ শুধুমাত্র অন্তর্বাসটুকুই ছিল পরনে, মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু, নিছকই দুর্ঘটনা নাকি থ্রেট কালচারের শিকার? 

বলে রাখি, অনুব্রত জেলে যাওয়ার পর বীরভূমের দেখাশোনার জন্য রাজ্যের তরফে কোর কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন ফিরেছেন ‘বীরভূমের বাঘ’। এবার এই কোর কমিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। কমিটি কী আদৌ থাকবে? এই বিষয়ে অবশ্য কেষ্টর জবাব, “সবাই মিলে চলব কথাটার মানে কী”? অর্থাৎ এখানেও জিল্পনা জিইয়েই রাখলেন তিনি। কথায় বলে, আহত বাঘ নাকি আরও বেশি ভয়ঙ্কর। ফলে ‘বীরভূমের বাঘ’-এর এই শান্তরূপ আদতে কোনও বড় ঝড়ের পূর্বাভাস নাকি শান্তিরই বার্তা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সময়ই এর জবাব দেবে!

RELATED Articles