পুলিশের পরিচয়ে এলাকায় ঢুকে স্থানীয়দের উপর হামলা তৃণমূল দুষ্কৃতীদের, সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ, নির্বাক পুলিশ, দফায় দফায় উত্তপ্ত বাঁশদ্রোনী

মহালয়ার দিনই ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দেবীপক্ষের সূচনাতেই খালি হয়ে যায় এক মায়ের কোল। পে লোডারে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক নবম শ্রেণীর কিশোরের। এই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা বাঁশদ্রোনীর ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডে। সেই এলাকায় এবার পুলিশের পরিচয় দিয়ে তৃণমূল দুষ্কৃতীরা প্রবেশ করে তাণ্ডব চালাল বলে অভিযোগ।

কিশোর মৃত্যুর ঘটনায় সকাল থেকেই উত্তপ্ত বাঁশদ্রোনী। কেন এত বড় দুর্ঘটনার পরও স্থানীয় কাউন্সিলর এলাকায় যান নি, তা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এলাকাবাসীরা। কিশোর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। এই ঘটনা প্রশাসনকে দায়ী করেছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থা থাকা সত্ত্বেও রা সারানো হয়নি। এরই মধ্যে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের হামলার অভিযোগ উঠল। সংবাদমাধ্যমকেও আক্রমণ করা হয়েছে বলে খবর।

এদিন পাটুলি থানার ওসি ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সেখানকার বাসিন্দারা। কাদার মধ্যেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয় ওসিকে। এরপর বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, এলাকাবাসীরা যখন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তখন আচমকাই বাইরে থেকে এক দল বহিরাগত ঢুকে পড়ে ওই এলাকায়। ওই বহিরাগতরা নিজেদের পুলিশের পরিচয় দেয় বলে দাবী। বিক্ষোভকারীদের গায়ে হাত তোলে ওই বহিরাগতরা। স্থানীয়দের ওই বহিরাগতরা মারধর করে বলে অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীদের দাবী, ওই বহিরাগতরা আসলে তৃণমূল কর্মী। তারা জানান, তারা তাদের চেনেন। দুষ্কৃতীরা শাসক দলের লোক বলে দাবী করেন এলাকাবাসীরা। এরই মধ্যে এক দুষ্কৃতীকে সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রশ্ন করা হলে, তিনি রীতিমতো পালিয়ে যান সেখান থেকে। সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ধাওয়া করেন তাঁকে। সেই সময় নানান সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টারদের ধাক্কা দেন তিনি।

জানা গিয়েছে, এবিপি আনন্দ থেকে শুরু করে রিপাবলিক বাংলার মহিলা সাংবাদিককে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। হেনস্থা করে দুষ্কৃতীরা। তাদের মধ্যে একজনকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি পালিয়ে যেতে যেতে বলেন তিনি নাকি বিজেপি লোক। কিন্তু স্থানীয়দের দাবী, দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের কর্মী। এমনকি, যে ব্যক্তি নিজেকে বিজেপির লোক বলে দাবী করেছেন, তাঁর সঙ্গে এলাকার স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের ছবিও মিলেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘রাক্ষসের কাছে দিয়েছিলাম মেয়েটাকে…’, কান্নায় ভেঙে পড়ে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন আর জি করের নির্যাতিতার বাবা  

একথা বেশ স্পষ্ট যে দুষ্কৃতীরা আসলে তৃণমূলের লোক। কিন্তু প্রশ্ন হল, তারা কেন সেই এলাকায় ঢুকলেন। সেখানে তো সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সেখানে তৃণমূলের লোকজন ঢুকে স্থানীয়দের উপর হামলা কেন করল। আর পুলিশ এই ঘটনা দেখেও কেন নির্বাক দর্শক হয়ে ছিল, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এই ঘটনার জল যে এখনও অনেকদূর গড়াবে, তা বেশ স্পষ্ট।

আরও অন্যান্য খবর