একটা অভিশপ্ত রাত। একরাতেই তছনছ সবকিছু। এক তরুণী চিকিৎসকের তিলতিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন, মা-বাবার কষ্ট করে তাঁকে বড় করে তোলা, মেয়েকে আরও প্রতিষ্ঠিত হতে দেখার তাদের সাধ, সব যেন এই রাতে ধূলিসাৎ হয়ে যায় কিছু নরপিশাচের কারণে। সেই অভিশপ্ত রাতটা না এলে হয়ত আজ মহালয়ার দিনে তাঁর বাড়িতে পুজো নিয়ে নানান পরিকল্পনা চলত। মা দুর্গাকে কীভাবে আরাধনা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলত। কিন্তু কোথায় কী! যে সময় বাড়িটা আলোয় ঝলমল করার কথা, সেই সময় আজ বাড়িটাতে বিরাজ করছে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর এক সন্তানহারা মা-বাবার আর্তনাদ।
মেয়ের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানই যে তাঁর স্বপ্নকে পিষে মেরে ফেলার জায়গা হয়ে উঠবে, তা কল্পনাও করতে পারেন নি আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবা। জুনিয়র চিকিৎসকদের মিছিলে রবীন্দ্র সদন থেকে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া নির্যাতিতার বাবা তেমনটাই জানালেন। বললেন, “আমি মেয়েটাকে আরজি করে দিয়েছিলাম। সে গিয়েছিল রোগী পরিষেবা দিতে, পড়াশোনা করতে। আর সেই প্রিন্সিপাল প্রমাণ লোপাটের দায়ে জেলবন্দী। তার মানে বুঝতে হবে, কোন কোন রাক্ষসের কাছে আমি দিয়েছিলাম আমার মেয়েটাকে। প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি যে আরজি কর হাসপাতাল এত রাক্ষসের একটা জায়গা”।
নির্যাতিতার বাবার কথায়, “আমার জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে। শুধু আমার মনে একটা কথা সবসময় (ঘুরপাক খাচ্ছে), ১৪০ কোটি লোকের বাঁচার অধিকার আছে। শুধু আমার মেয়ের বাঁচার অধিকারটা এই দুষ্কৃতীরা ছিনিয়ে নিয়েছে। কত যন্ত্রণা তাকে দিয়েছে”।
এদিন আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন নির্যাতিতার বাবা। কাদের আড়াল করতে প্রমাণ লোপাট করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “এতদিন হয়ে গেল, আমরা বিচারের কোনও প্রসেস দেখতে পাচ্ছি না। যারা গ্রেফতার হয়েছে, তারা প্রমাণ লোপাটের জন্য গ্রেফতার হয়েছে। তারা কেন প্রমাণ লোপাট করেছে, সেই উত্তর আমরা এখনও পাইনি। তারা নিশ্চয়ই কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করছে”।
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বললেন, “আমরা যখন আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছেছি, আমাদের সারাদিন ওই অবস্থার মধ্যে সেমিনার রুমের গেটের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়েছ। সেইসময়টা যে কি অস্বস্তিকর ছিল, আমি জীবনে কোনওদিন সেটা কাউকে বোঝাতে পারব না। আর ভুলতেও পারব না”।
আরও পড়ুনঃ ‘আপনাদের পাশে থাকার জন্য এমপি পদ ছেড়েছি, কাজে ফিরুন, কাজ থেকে দূরে থাকবেন না…’, জুনিয়র চিকিৎসকদের আর্জি তৃণমূলত্যাগী জহর সরকারের
তবে এত কিছুর পরও সুপ্রিম কোর্ট ও সিবিআইয়ের উপর আস্থা হারাচ্ছেন না নির্যাতিতার বাবা। বললেন, মেয়ের সুবিচারের জন্য শীর্ষ আদালত ও সিবিআইয়ের উপর বিশ্বাস রয়েছে তাদের। নির্যাতিতার মা জানান, যেভাবে সকলে তাদের পাশে রয়েছে, তাতে তাঁর বিশ্বাস মেয়ের জন্য ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনবেন সকলে।





