ব্যারাকপুর, জগদ্দল যে কিছুদিন পর পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, সেকথা কারোর অজানা নয়। জগদ্দলে হামেশাই শোনা যায় বোমাবাজির কথা। দুর্গাপুজোর আগেও ফের উত্তপ্ত জগদ্দল। এবার নিশানায় খোদ অর্জুন সিং। তাঁকে লক্ষ্য করেই চলল এলোপাথাড়ি গুলি, হল বোমাবাজিও।
জানা গিয়েছে, আজ, শুক্রবার সকালে নিজের বাড়িতেই ছিলেন অর্জুন সিং। আচমকাই তাঁর বাড়ির সামনে শুরু হয় বোমাবাজি। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। বোমা-গুলির শব্দ শুনে অর্জুন সিং বাড়ির বাইরে এলে তাঁর সামনেই চলে বোমাবাজি। সেই সময় বোমার স্প্লিন্টার তাঁর পায়ে লাগে বলে খবর। বেশ আহত হন বিজেপি নেতা।
এই ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছেন অর্জুন সিং। তাঁর দাবী স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরের ছেলেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এক সংবাদমাধ্যমে অর্জুন সিং বলেন, “ওই ১৫-২০ জন দুষ্কৃতী নিয়ে আমার বাড়ির উপর হামলা চালায়। আমার নিরাপত্তারক্ষীদের উপরও হামলা চালান হয়। নবরাত্রির পুজো হচ্ছিল। আমি সেখানে ছিলাম। আওয়াজ পেয়ে আমি নীচে নামি। গুলি ছোড়া, বোমাবাজি কিছুই বাদ দেয়নি। একটা বড় স্প্লিন্টার এসে আমার পায়ে লেগেছে”।
অর্জুনের অভিযোগ, এই ঘটনা পুলিশের সামনে ঘটলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “পুলিশ পুরোপুরি নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের সামনেই এটা ঘটে। এই ছেলেটি আগেও আমাদের উপর বোমা হামলা করেছিল। তার বিরুদ্ধে এনআইএ-র মামলাও ছিল। আবার আজ বোমা ছুড়ল। প্রায় ২৫টার উপর বোমা ফাটানো হয়েছে”।
অর্জুনের দাবী, তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। তিনি জানান, “আমাকে মেরে দেওয়ার চক্রান্ত ছিল। তা ব্যর্থ হয়েছে। তবে আমার পায়ে বোমার আঘাত লেগেছে। বেশ বড় একটা স্প্লিন্টার আমার হাঁটুর নীচে এসে লাগে। রক্তও বেরিয়েছে। তবে আঘাত খুব গুরুতর নয়”।
এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্জুন সিং। তিনি এও জানান যে এই ঘটনার কথা তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্’কে জানাবেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন করার বার্তাও দিলেন তিনি। এই মুহূর্তে ওই এলাকায় মোতায়েন করা রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পুলিশ। এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে বেশ আতঙ্কের মধ্যে জগদ্দলের বাসিন্দারা।






