পুজোর আগেই খারাপ খবর নদিয়ার বাসিন্দাদের জন্য। বন্ধ হয়ে গেল ভাগীরথী নদীর উপর নির্মিত গৌরাঙ্গ সেতুতে যান চলাচল। ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে সেতুতে। আর এর জেরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নদিয়া ও বর্ধমানের মধ্যে। সেতুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন ইঞ্জিনিয়াররা।
নদিয়া জেলার ভাগীরথী নদীর উপর রয়েছে গৌরাঙ্গ সেতু। গতকাল, বৃহস্পতিবার সেই সেতুতে দেখা দেয় ফাটল। কয়েক ইঞ্চি বসে গয়েছে এক্সটেনশন প্লেট। সেতুতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীবাহী যানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই সেতুর উপর। ভারী যান তো বন্ধই। এর জেরে বেশ সমস্যার মুখে সাধারণ মানুষ।
সেতুর এই পরিস্থিতির কথা জানার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। পূর্ত দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বুলবুল ইসলাম জানান, “এটা ভয়ের কোনও বিষয় নয়। ব্রিজের মাঝে এক্সপ্যানশন প্লেট কিছুটা বসে গিয়েছে। সেই কারণেই ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ছোট গাড়ি অল্প সংখ্যায় ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে”। তিনি আরও জানান, “ইতিমধ্যেই মেরামতির কাজে হাত লাগিয়েছে কর্মীরা। তবে নির্দিষ্ট করে ঠিক বলা যাবে না কতদিনে এটা ঠিক হবে”।
প্রসঙ্গত, এর আগেও ২০২১ সালে এমন ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় ১৫ দিনের জন্য বন্ধ ছিল এই গৌরাঙ্গ সেতু। এবার পুজোর আগে এই সেতু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদিয়া ও বর্ধমানের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। আর এর জেরে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকে।
বলে রাখি, ১৯৭২ সালে ভাগীরথী নদীর উপর তৈরি হয়েছিল এই সেতু। প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি যাতায়াত করে এই সেতুর উপর দিয়ে। নদিয়া ও বর্ধমানের সংযোগস্থল এই গৌরাঙ্গ সেতু। ফলে এই সেতু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি তো হবেই, এরই সঙ্গে দুর্ভোগে পড়বেন সাধারণ মানুষও।
আর মাত্র ৫ দিন পরই শুরু বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। এমন সময় এই গৌরাঙ্গ সেতু বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জনসাধারণের দুর্ভোগ বাড়বে। গৌরাঙ্গ সেতু দিয়ে দুর্গাপুরে যাওয়ার পথে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যের বিজ্ঞান ও জৈব প্রযুক্তি দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আশ্বাস দেন যে দ্রুত ব্রিজ মেরামতি করা হবে বলে।





