ওপার বাংলা থেকেই শুরু ঘোষ বাড়ির দুর্গাপুজো। বরিশালে থাকার সময় শুরু হয় দুর্গাপুজো। সেটা আদতে কবে তা বলা যায় না। তবে বিশেষ কোনও ১৯৬৭ সালে বন্ধ হয়ে যায় পুজো। কিন্তু ওই যে কথায় বলে না, মা নিজের পুজো ঠিক নিজে আদায় করে নেন। সেই কারণেই হয়ত ফের কলকাতার সল্টলেকে ২০০৭ সালে আবার শুরু হয় ঘোষদের দুর্গাপুজো। এখনও জাঁকজমকের সঙ্গে চলছে সেই পুজো।

পুজোর চারটে দিনই সকলের সঙ্গে হইহুল্লোড় করে কাটান বাড়ির সকলে। এই পুজো নিয়ে আমাদের বিশেষ কিছু কথা জানালেন পরিবারের সদস্য অরূপ চক্রবর্তী। বাংলাদেশে থাকাকালীন এই দুর্গাপুজোতে পাঁঠা বলি হত। সন্ধিপুজোর নাকি মহিষ বলি হত বলেও খবর। কিন্তু এখন আর সেই চল নেই। এখন কলকাতার বাড়ির মা দুর্গা সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী। সপ্তমী থেকে নবমী নিরামিষ ভোগই নিবেদন করা হয় মা-কে। আর দশমীর দিন পান্তা ভাত-কচুর শাক খেয়ে কৈলাসে পাড়ি দেন দেবী।
পুজোড় দিনে এক হন পরিবারের সকলে। এই পুজোর চারটে দিন সকলে মিলে হইহুল্লোড়েই কাটান ঘোষ বাড়ির সদস্যরা। নানান আত্মীয়স্বজন মিলে সন্ধ্যেবেলা বসে নাচ-গানের আসর। অষ্টমীর অঞ্জলির পরই তোড়জোড় শুরু হয় কুমারী পুজোর। ছোট্ট দুর্গাকে সাজিয়ে তার পুজোয় মেতে ওঠে ঘোষ পরিবার। দেখতে দেখতে কেটে যায় নবমীর গোটা দিনটাও।

পঞ্জিকা মতে আজ দশমীর তিথি শুরু হয়ে গেলেও ঘোষ বাড়ির দুর্গাপুজোতে কিন্তু আজ নবমীই উদযাপন হচ্ছে। আগামীকাল হবে দশমীর পুজো। এই ঘোষ বাড়িতে দশমীর দিন হয় বিশেষ এক পুজো। দেবী দুর্গার বিসর্জনের পুজো হয়ে গেলে শুরু হয় অপরাজিতা পুজো। সেই অপরাজিতা পুজোর পর শুরু হয় দেবীর বরণ। আর তারপর বাড়ির মহিলারা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়। আশেপাশের বাড়ি থেকেও মহিলারা আসেন বরণে অংশ নিতে। এরপর আসে মায়ের বিদায় বেলা। দেবীকে কৈলাসের উদ্দেশে রওনা করেন ঘোষ পরিবার। ফের একটা গোটা বছরের অপেক্ষা।

বাড়ির পুজো হলেও এই পুজোতে অংশ নেন বাড়ির বাইরের অনেক মানুষজনও। পাড়া-প্রতিবেশীও মেতে ওঠেন ঘোষ বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে। চারদিন সেখানেই প্রসাদ পান তারা। থাকে ভোগের ব্যবস্থাও। সব মিলিয়ে এলাহি আয়োজন বলা যায়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী সকলকে নিয়ে পুজোর চারটে দিন নিদারুণ আনন্দে কাটান সকলে।

বিদায়ের পর এক বছরের অপেক্ষা মায়ের জন্য। সেই কারণে মায়ের কাছে ঘোষ বাড়ির সদস্যদের একটাই প্রার্থনা যাতে মা সকলকে ভালো রাখেন। চারদিকের যা পরিস্থিতি বর্তমানে চলছে, তা যেন অবসান ঘটে। সংসারে যেন শান্তি ফেরে এটা একমাত্র চাওয়া ঘোষ বাড়ির সকলের।





