গত ১৩ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন জুনিইওর চিকিৎসকরা। নিজেদের ১০ দফা দাবীতে অনড় তারা। বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বটে কিন্তু তবুও অনশন কর্মসূচি ছাড়েন নি চিকিৎসকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন একদিনও অনশন মঞ্চে এলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনশনকারী চিকিৎসকরা। সেই প্রেক্ষিতে পাল্টা দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে সাংবাদিক বৈঠক থেকে অনশনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুজোয় মেতে আছেন। অথচ গত ১৩ দিন ধরে আমরা শুধু জল খেয়ে আছি। অথচ আমাদের দেখতে উনি এক বারের জন্যেও এলেন না”। তাদের প্রশ্ন ছিল, “কোথায় গেল তাঁর মাতৃসত্তা”?
চিকিৎসদের এই প্রশ্নের কড়া জবাব দিলেন কুণাল ঘোষ। বললেন, “খুব ইঙ্গিতপূর্ণভাবে নাটকীয় সুরে বলা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী একবার আসতে পারলেন না! তাঁদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জ্যোতি বসুর সরকারের মতো পুলিশ নামিয়ে পিটিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন তুলে দেননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যভবনে আপনাদের ধর্না মঞ্চে”।
এদিন কুণাল ঘোষ জুনিয়র চিকিৎসকদের এও মনে করিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য ভবনে জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্না অবস্থানে ছুটে গিয়েছেন। তাদের সমস্যা সমাধানে নিজের কালীঘাটের বাড়ি এমনকি নবান্নে একাধিক বৈঠক করেছেন। কুণালের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী তো আগেই আপনাদের কাছে গিয়েছিলেন। আপনারা তো ওনার কথা শোনেননি। তখন রাজনীতি করছেন। বসিয়ে রেখেছেন, অপমান করেছেন। তারপরেও তো উনি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে চলেছেন”।
কুণাল ঘোষের দাবী, জুনিয়র চিকিৎসকদের এই আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি এও বলেন, “তারপরেও আপনারা যতবার খুশি যেখানে খুশি বসে পড়বেন আর বলবেন মুখ্যমন্ত্রী একবার আসতে পারলেন না, এটা কোনও যুক্তিসঙ্গত কথা হল। কিছু রাজনৈতিক লোক প্ররোচনা দিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের আবেগকে বিপথে পরিচালিত করে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা মেটানোর চেষ্টা করছে”।
তবে জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশন প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথাও বলেন কুণাল ঘোষ। জানান, “এভাবে টানা অনশন করে নিজেদের শরীরে চাপ নেওয়া ঠিক নয়। বুঝতে হবে, আদালতের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত করছে। রাজ্যও পরিকাঠামো বাড়ানোর কাজ দ্রুততার সঙ্গে করছে। অযথা জেদ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন”।
আরও পড়ুনঃ বিষমদের জেরে মৃত্যু ৩৫ জনের, আশঙ্কাজনক অবস্থায় একাধিক, মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধোনা বিরোধীদের
কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন জুনিয়র চিকিৎসকরাও। তাদের আবার পাল্টা প্রশ্ন, “তবে কী উনি জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গ টেনে পুলিশ দিয়ে আন্দোলন তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন”। এই বিষয়ে যদিও স্পষ্টভাবে কোনও ধারণা মেলেনি।





