ট্যাব দুর্নীতিতে তৃণমূল যোগ! তৃণমূল নেতারাই সীমান্ত এলাকায় ট্যাব প্রতারণা চক্র তৈরি করেছে, উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ

ট্যাব দুর্নীতি নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তাল রাজ্য। রাজ্যের নানান স্কুলের পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারের দেওয়া ট্যাবের টাকা ঢোকার বদলে সেই টাকা ঢুকেছে অন্য অ্যাকাউন্টে। একটা-দুটো নয়, শ’য়ে শ’ পড়ুয়াদের সঙ্গে ঘটেছে এই ঘটনা। এবার এই ঘটনায় তৃণমূলের যোগ থাকার অভিযোগ উঠল। তৃণমূল নেতাদের মদতেই সীমান্তে ট্যাব প্রতারণা চক্র তৈরি হয়েছে বলে দাবী।

এই ট্যাব দুর্নীতিতে মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ধৃতদের মধ্যে কেউ সাইবার ক্যাফের মালিক যিনি স্কুলে ডেটা এন্ট্রির  কাজ করে তো কেউ আবার স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক। এরাই ট্যাব দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অনুমান।

এরই মধ্যে এবার মালদহ জেলার প্রধান শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাদের চাপেই সীমান্ত এলাকার স্কুলগুলিতে অযোগ্য যুবকদের কম্পিউটার শিক্ষক ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের হাত ধরেই এই ট্যাবের টাকায় এমন কেলেঙ্কারি ঘটেছে। দুর্নীতির জন্যই তাদের নিয়োগ করা হয়েছিল বলে দাবী জেলার প্রধান শিক্ষকদের একাংশের।

এই বিষয়ে মালদহের চক সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল তালুকদার বলেছেন, “ট্যাবের টাকা গায়ের করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট চক্র জড়িত আছে। কিছু জায়গায় চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দিয়ে, কিছু জায়গায় সাইবার ক্যাফের মাধ্যমে এইসমস্ত জিনিসগুলো হচ্ছে। এদের সরকার নিয়োগ করেছিল অস্থায়ী ভাবে। তাদের এখন স্থায়ী পদে নিয়োগ দিয়ে দিয়েছে। যেহেতু বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে হচ্ছে তাই প্রভাবশালী কোনও নেতার সুপারিশে হয়তো নিয়োগ হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার স্কুলগুলোতেই এগুলোর প্রবণতা বেশি করে দেখা যাচ্ছে। সেখানে এই ধরণের নিয়োগ বেশি পরিমাণে দেখা যাচ্ছে। পরিকল্পনামাফিক চক্র তৈরি করে এই ট্যাবের টাকা গায়েবে কাজে লাগানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অনেক মাথা থাকতে পারে সেখানে”।

আরও পড়ুনঃ ফের বড় কেলেঙ্কারি আর জি করে, অপারেশন থিয়েটারে ঘটে গেল ভয়ঙ্কর ঘটনা, ব্যাহত পরিষেবা 

এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মালদহের পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, “ধৃতদের মধ্যে প্রত্যেকেই শিক্ষিত। তাদের মধ্যে একজন সাইবার ক্যাফের মালিক ও একজন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষ রয়েছেন। তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক কি না তা তাদের নথি খতিয়ে দেখার পর বলতে পারব”।

আরও অন্যান্য খবর