মন্দারমনির হোটেল ভেঙে ফেলা নিয়ে বড় নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সিনহা, বুলডোজার চলবে শতাধিক হোটেলে?

মন্দারমনিতে ১৪০টি হোটেল, রিসোর্ট ভেঙে গেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের তরফে। এর জেরে তুমুল উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন হোটেলের মালিকরা। কলকাতা হাইকোর্টে জেলাশাসকের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেন তারা। আজ, শুক্রবার ছিল এই হোটেল ব্যবসায়ীদের ভাগ্য নির্ধারণ। এদিন বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে শুনানি হয় এই মামলার।

মন্দারমনির ১৪০টি হোটেল নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ আদালতে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছিল। বেআইনি নির্মাণ নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই মন্দারমনির ১৪০টি হোটেল ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক। সেই মামলার শুনানিই ছিল আজ, শুক্রবার।

জেলাশাসকের এই নির্দেশের পর যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিলেন যে মন্দারমনির কোনও হোটেলে বুলডোজার চলবে না। এদিন আদালতে হোটেল ব্যবসায়ীদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৯ সালের নির্দেশের পর কেন হোটেল ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আদালতে ওঠে প্রশ্ন।  

এদিন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, “কমিটির যদি কোনও ক্ষমতা না থাকে বন্ধ করার, তাহলে সে কি পারে ভেঙে ফেলতে? সেখানে একটা শিল্প চলছে। পর্যটক শিল্প”। এই পলিসিকে দূষিত বলে উল্লেখ করেন আইনজীবী। তাঁর কথায়, “উত্তরপ্রদেশে এমন বুলডোজার পলিসি নেওয়া হয়ে থাকে”।

এদিন বিচারপতি হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চান যে তাদের কোনও রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে কী না। তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কী না, তাও জানতে চাওয়া হয়। এদিন সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন, আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্দারমনির এই হোটেলের উপর স্থগিতাদেশ থাকবে। ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই হোটেলগুলির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে জানান বিচারপতি।

আরও পড়ুনঃ ‘নিজের চাটুকারিতা বাহিনীর সমালোচনা করতেই ব্যস্ত পুলিশমন্ত্রী, রাজ্যবাসীর নজর ঘোরাতেই এই কৌশল’, পুলিশকে মমতার কড়া বার্তার পর কটাক্ষ সুকান্তের 

আদালতের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তিতে হোটেল ব্যবসায়ীরা। এই প্রসঙ্গে হোটেল মালিক সংগঠনের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, তাদের বারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু সীমারেখা কোথায়, তা জানানো হয়নি। তাদের কথায়, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে উত্তর না মেলায় তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।

RELATED Articles