বৃহস্পতিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের একাংশ টাকা খাচ্ছে থেকে শুরু করে নিচুতলার পুলিশের একাংশ তৃণমূলকে ভালোবাসে না, এমন নানান মন্তব্য করেন তিনি। মমতার এহেন কড়া বার্তার কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যবাসীর নজর ঘোরাতেই কী পুলিশের একাংশ টাকা খাচ্ছে, বালি চুরি, কয়লা চুরি নিয়ে মন্তব্য করলেন মমতা?
গতকাল, বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠকে মমতার বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে সুকান্ত লেখেন, “কী আশ্চর্য! রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী নিজেই তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা চাটুকারিতা সর্বস্ব বাহিনীর সমালোচনা করতে ব্যস্ত! আমরা মাননীয়া ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাইছি, ত্রস্ত রাজ্যবাসীর নজর ঘোরাতে এটা কি তাঁর নয়া আবিষ্কৃত কোনও বিশেষ কৌশল? নাকি আচ্ছন্ন অবস্থায় তাঁর অন্তরাত্মার থেকে আগত স্বগতোক্তি? নাকি কয়লা-বালি সমন্বিত এই বার্তা দলেরই আরও একটি বিভাজিত অংশের নায়কের উদ্দেশ্যে দিয়ে রাখলেন”?
কি আশ্চর্য! রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী নিজেই তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন চাটুকারিতা সর্বস্ব বাহিনীর সমালোচনা করতে ব্যস্ত!
আমরা মাননীয়া ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী @MamataOfficial -এর কাছে জানতে চাইছি, ত্রস্ত রাজ্যবাসীর নজর ঘোরাতে এটা কি তাঁর নয়া আবিষ্কৃত কোনও বিশেষ কৌশল! নাকি আচ্ছন্ন অবস্থায় তাঁর… pic.twitter.com/G5Yl4FkLMZ— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) November 21, 2024
এই ভিডিওতে মমতাকে বলতে শোনা যায়, “কিছু অফিসার এই সরকারকে ভালবাসে না। তিনি বলেন, লোয়ার লেভেলে কিছু অফিসার, কর্মী.. যাঁরা এই সরকারকে ভালোবাসে না, এবং পুলিশেরও কিছু লোক, তারা টাকা খেয়ে, আজ বালি চুরি, কয়লা চুরি, সিমেন্ট চুরি। আমি পরিষ্কার বলেছি, বালি পাথরের জায়গায় টেন্ডার করো। অবৈধ খনন আটকে দাও”।
এদিন নিচুতলার পুলিশকর্মীদের নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন মমতা। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “হয়ত তুমি (রাজ্য পুলিশের ডিজি) চেষ্টা করো। কিন্তু লোকাল পুলিশ সহযোগিতা করছে না। সবাইকে বলছি না। আমি একাংশকে বলছি। রাজনৈতিক নেতাদের নামে সকলে বেশি বদনাম করেন। পাঁচ টাকা বলে দেয় ৫০০ টাকা (খাচ্ছে)। চোর (বলে দেয়)”।
রাজীব কুমারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “তুমি এসটিএফকে শক্তিশালী করো, অ্যান্টি কোরাপশন ব্যুরোকে শক্তিশালী করো। আমি সিআইডি পুরো রদবদল করব। পুরোটা”।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, “আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে না আমি কোনও সরকারের কাজে বা কারোর কাছ থেকে এক পয়সা নিয়েছি.. অন্য কেউ যদি নিয়ে থাকে, তুমি ছাড়বে কেন? একই আইন সবার জন্য…. কোনও ফারাক যেন না হয়”।





