শিক্ষিকার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করার সন্দেহে পড়ুয়াদের বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। স্কুলে গিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিডিওর তরফে।
ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের দিনহাটা ১ ব্লকের বাণীনিকেতন শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে। ওই স্কুলের শিক্ষিকা অনিতা রায় অধিকারী জানান, স্কুলে যাওয়ার সময় তিনি দেড় হাজার টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্লাস করানোর মাঝেই তিনি দেখেন ব্যাগের চেন খোলা আর ব্যাগের মধ্যে টাকা নেই। পড়ুয়াদের উপরেই সন্দেহ যায় তাঁর। এরপরই নাকি পড়ুয়াদের বিবস্ত্র করে মারধর করেন তিনি।
তবে মারধরের কথা স্বীকার করলেও বিবস্ত্র করে মারধরের কথা অস্বীকার করেন ওই শিক্ষিকা। তিনি বলেন, “মায়ের চিকিৎসার জন্য হাজার দেড়েক টাকা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম। পরে দেখি ব্যাগের চেন খোলা, টাকাও নেই। দুটো বাচ্চাকে হাত দিয়েই মেরেছি। কিন্তু বিবস্ত্র করে মারের অভিযোগ মিথ্যা”।
এক ছাত্রের কথায়, “দিদিমণিকে বলছিলাম আমরা টাকা নিইনি। বার বার বলার পরও আমাদের কথা শুনছিল না। আমাদের জামা-কাপড় খুলে মারতে থাকে”।
কেন পড়ুয়াদের সন্দেহ করলেন শিক্ষিকা?
শিক্ষিকার কথায়, “স্কুলে মাঝে মধ্যেই একজনের পেনসিল, রবার অন্যজনের ব্যাগে পাওয়া যায়। সেই কারণেই বাচ্চাদের তল্লাশি করি। রাগের মাথায় দুজন বাচ্চাকে মারি”। তবে পড়ুয়াদের থেকে কোনও টাকা পাওয়া যায়নি বলেই খবর।
এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। এক ছাত্রীর জানাচ্ছেন, “দিদিমণির পয়সা হারিয়ে গিয়েছিল। বাচ্চারা টাকা চুরি করেছে বলে সন্দেহ করেন তিনি। ওরা টাকা নেয়নি বললেও তিনি মানতে চাননি। বিবস্ত্র করে মারধর করতে থাকেন। মেরে হাত-পা ফাটিয়ে দিয়েছেন”।
আরও পড়ুনঃ মন্দারমনির হোটেল ভেঙে ফেলা নিয়ে বড় নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সিনহা, বুলডোজার চলবে শতাধিক হোটেলে?
অন্যদিকে আবার শিক্ষিকার অভিযোগ, তাঁকে নাকি মারধরের হুমকি দিয়েছেন অভিভাবকরা। তাঁর কথায়, “আমি স্কুল থেকে চলে আসার পর অভিভাবকরা বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। আমাকে বিবস্ত্র করে মারধরের হুমকিও দেন তাঁরা”। পড়ুয়াদের বিবস্ত্র করে মারধরের ঘটনায় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন শিশু শিক্ষা কেন্দ্রগুলির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সমিতির এডুকেশন অফিসার।





