বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে এই মুহূর্তে এপার বাংলারও হাওয়া গরম। ওপার বাংলায় হিন্দুদের উপর নির্যাতন, ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারির প্রতিবাদের আঁচ পড়েছে এ রাজ্যেও। ভারত-সহ নান্না দেশের তরফে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে সনাতনী সমাজ। আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতেই রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে সমাবেশে যোগ দিয়েছে ৫০টি সংগঠন। সেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও।
এদিনের এই সমাবেশে যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি আজকের সভার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁকে আমি ধন্যবাদ জানাই। বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রবাদী সংগঠন বাংলাদেশে হিন্দু নিধন, মন্দির ভাঙা, হিন্দু মা বোনেদের ইজ্জত লুঠ করেছে। ফলাকাটা থেকে বেলডাঙা পশ্চিমবাংলায় হিন্দু ধর্মাচরণে আঘাত আর ব্যাঘাতের প্রতিবাদে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময়ে এই জমায়েত”।
শুভেন্দুর কথায়, “যারা ভারতবর্ষকে, সংবিধানকে আক্রমণ করেছে, তার জন্য কোনও পুলিশি বাধা আসেনি। হাইকোর্টে যেতে হয়নি। কলকাতা পুলিশের জলের গাড়ি, সরকারের বাঁশ, আপ্যায়নের কোনও ত্রুটি ছিল না সরকারের। জাহা ইউনুস তাহাই এপারের মমতা”।
মমতা সরকারকেও এদিন একহাত নিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, “৩১ তারিখে জনাব ফিরহাদ হাকিম এখানে সভা করে অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছিলেন, পাঁচ, পনেরো, পঁচিশ, পঞ্চাশ, যেখানেই নামাজ হবে সেটাই ওয়াকফের প্রপার্টি হবে। এর জন্য অনুমতি লাগেনি। পুলিশের পারমিশিন লাগেনি, হাইকোর্টে যেতে হয়নি। এর থেকেই বোঝা যায় যাহাই ইউনুস তাহাই মমতা”।
ভারত যে চুপ করে বসে নেই, সেকথাও এদিন বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু। বলেন, “ভারতীয় সেনা বাংলাদেশের জন্য কী করেছিল মনে নেই? বিএনপি নেতা তাঁর স্ত্রীর শাড়ি পোড়াচ্ছেন। ভারতীয় পন্য বয়কটের কথা বলছেন। এখনও বাঙালি হিন্দুরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। একুশে মমতা আমাকে হারাতে এসেছিলেন। তখন হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছিলাম। নন্দীগ্রামে ৬০ শতাংশ হিন্দুকে এক করে মমতাকে হারিয়েছিলাম”।
এরপরই বাংলাদেশকে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “একদিনে পেট্রোপোল বন্ধ করেছিলাম। ৪০ গাড়ি পেঁয়াজ গিয়েছে পচে। এক দিনে হালুয়া টাইট করে দিয়েছি। এক্সপোর্টার, ইমপোর্টাররা সবাই হিন্দু। ওরা আমাকে বলছে, দাদা সাতটা দিন আটকে দিতে পারলে না, এদের কী অবস্থা কী হবে দেখবে”।






