বিজেপির দাবি ! শ্যামাসুন্দরী মন্দিরের তহবিল দখল করতে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র, পুরোহিতের বক্তব্যে উত্তেজনা তুঙ্গে!

শ্যামাসুন্দরী মন্দিরের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে, এবং সেই ঘটনার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির দাবি, মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন, এবং আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে তৃণমূলের মন্দিরের তহবিলে হাত বসানো। বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই মন্দিরের তহবিল দখল করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তা করতে না পেরে তারা এই নতুন অভিযোগ তোলার পথ বেছে নিয়েছে।

এদিকে, বিজেপি শিবিরের দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শ্যামাসুন্দরী মন্দির বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গ বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে যাওয়ার ফলে মন্দিরের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্দিরের মা কালী, মহাদেব এবং জগন্নাথদেবের মূর্তি সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিজেপি তাদের অভিযোগের ‘প্রমাণ’ হিসেবে দুটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছে। যদিও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা এই ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করেনি, তবুও বিজেপি দাবি করছে যে, এক ভিডিয়োয় যে পুরোহিত কথা বলছেন, তিনি মন্দিরের পুরোহিত এবং অন্য ভিডিওতে তৃণমূল নেতা উত্তম হালদার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পুরোহিতের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। ভিডিওতে এক ব্যক্তি কুণাল ঘোষকে ‘চোর’ এবং ‘সারদাকাণ্ডের চোর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘‘আমরা আমাদের মন্দিরে কিছু হতে দেব না।’’

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্যামাসুন্দরী মন্দিরে পুলিশ এবং কুণাল ঘোষসহ তৃণমূল নেতারা উপস্থিত হন। মন্দির কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, পুজোর কোনো আপত্তি নেই তবে মা কালীকে সামনে রেখে কোনো আপত্তিকর কাজ করা যাবে না। পুলিশ এই বিষয়ে কঠোর বার্তা দেয় এবং মন্দিরের ব্যবসার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ এবার শীতের ছুটির বার্তা! তাপমাত্রার ওঠানামায় বিভ্রান্ত হাওয়া অফিস

এদিকে, বিজেপির শেয়ার করা ভিডিওতে পুরোহিত দাবি করে বলেন, ‘‘আমি দেখতে চাই, মা কালী বা তোর শক্তি কত বেশি। তুই নির্বংশ হবে, তোর পুরো পরিবার নির্বংশ হবে।’’ এই বিতর্কিত ভিডিও এবং তার বক্তব্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

আরও অন্যান্য খবর