বিশ্বের সামনে করোনার খবর প্রকাশ করেছিলেন! রোষানলে পড়ে দু’মাস নিখোঁজ থাকলেন এক সাংবাদিক, অবশেষে মিলল খোঁজ

নভেল করোনাভাইরাস বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে আতঙ্কের এক অতি পরিচিত নাম। কিন্তু এই নাম এবং তাঁর সর্বগ্রাসী রূপের কথা প্রথমে বিশ্বের কাছে চেপে যেতে চেয়েছিল চীন। কিন্তু এই ঘটনা প্রকাশ করে ওই দেশেরই কিছু সাহসী সাংবাদিক। তাঁর মধ্যে একজন হলেন লি জেহুয়া। নিখোঁজ ছিলেন দুমাসের‌ও বেশি সময় ধরে। অবশেষে এই সিটিজেন্স রিপোর্টার-এর খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। উহানে ছড়িয়ে পড়া মারণভাইরাস সম্পর্কে যে সাংবাদিকরা সবার আগে বিশ্ববাসীকে অবগত করেছিলেন জেহুয়া তাঁদের মধ্যে একজন। করোনার জেরে উহানের অবস্থা কত শোচনীয় হয়ে উঠেছিল সেই ছবি তুলে ধরেছিলেন বিশ্বের সামনে। আর এই কাজের পুরস্কার‌ও পেয়েছিলেন তিনি, সরকারপক্ষের রোষানলে পড়ে।

একদিন আচমকাই অদৃশ্য হয়ে যান তিনি। তবে নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি একবার জানিয়েছিলেন, খবর প্রকাশ করার পর থেকে একটা সাদা রঙের এসইউভি তাঁকে ফলো করে। জেহুয়া যেখানেই যান সেখানেই ওই সাদা গাড়ি দেখতে পান।

২৬শে ফেব্রুয়ারি জেহুয়া আরও একটি খবর প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুলিস তাঁকে ধাওয়া করেছে। আর তার পর থেকে তিনি বেপাত্তা। জেহুয়ার কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। দুমাস পর জেহুয়া নিজেই জানালেন, এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন! তিনি জানান, হুবেই প্রদেশের কোনও এক জায়গা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। এর পর উহানেই কোয়ারেন্টিনে ছিলেন তিনি। স্পর্শকাতর অঞ্চলে থাকায় তাঁকে দীর্ঘদিন কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলেছিল স্থানীয় প্রশাসন। যদিও জেহুয়ার দেওয়া এই তথ্য সম্পূর্ণ সত্যি নয় বলে দাবি করেছেন চীনা সংবাদমাধ্যম। চাপে পড়েই তাঁকে এসব বলতে হচ্ছে বলে মত অনেকের।

চেন কিউশি নামে আরেক সাংবাদিক নিখোঁজ হওয়ার পর উহানে গিয়েছিলেন তিনি। এমনই জানালেন জেহুয়া। লাশ পোড়ানো হচ্ছে এমন একটি জায়গার ভিডিয়ো করে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সাংবাদিক চেন কোয়েশি ৭৫ দিন ধরে নিখোঁজ। ফ্যাং বিং নামের আরেক সাংবাদিকেরও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও অন্যান্য খবর