কিছুদিন আগেই তাঁর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। উপসর্গ দেখে প্রথমে সবাই ভেবেছিল তিনি হয়তো করোনা আক্রান্ত। কিন্তু তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তাই সুস্থ হয়ে ফিরে এসেই ভারতকে নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
যে পাকিস্তান এখন ভারতের সামনে দাঁড়াতেই পারেনা, বিশ্বকাপে দেখা হলেই ভারতের সামনে নতজানু হয়ে বসে পড়ে সেসব কি মনে নেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর? নাকি আছে! থাকলেও তিনি সেটা আপাতত অস্বীকার করলেন। সাম্প্রতিক অতীতে পাকিস্তান বারবার নাস্তানাবুদ হয়েছে ভারতের সামনে। সেটাও মনে পড়ল না পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। ভারত—পাকিস্তান দ্বৈরথ বলে কথা। বাজার গরম না থাকলে হয়! দুই দেশের বহু প্রাক্তনই সময়ে—অসময়ে একে অপরের তুলোধনা করেছেন এখনও করেন। আর এবার করোনার এই ভয়াবহতার মধ্যেও ইমরান খান পড়লেন ভারত নিয়ে।
এই তো সেদিন আবার ইনজি কী সব বলে বসলেন! ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা নাকি দেশের জন্য খেলেন না। নিজেদের জন্য খেলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা ৩০-৪০ রান করলেও সেটা দলের স্বার্থে করেন। এগুলো তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধি। এসব দাবির পিছনে কোনও যুক্তি বা প্রমাণ তিনি অবশ্য তাঁরা খাঁড়া করতে পারেননি। মনে হয় বলে দেন অতো ভাবেন না। জানেন ভারত-পাক নিয়ে যা বলবেন তাতেই লাইমলাইটে এসে যাবেন। আর হলও তাই। সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যম তাঁর এমন মন্তব্য ফলাও করে তুলে ধরল। ইনজির অভিপ্রায় পূর্ণ। তবে এবার ইনজির থেকেও এক গজ এগিয়ে মন্তব্য করে বসলেন ইমরান। বললেন মনের কথা।
কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে গিয়েছিলেন ইমরান খান। সেখানেই তিনি নিজের খেলার সময়ের কথা বলতে গিয়ে একটি গল্প শোনাতে শুরু করেন। তখনই তিনি হঠাৎ করে সগর্বে বলে ওঠেন, ”আমি পাকিস্তান দলের অধিনায়ক থাকাকালীন কখনওই ভারতীয় দলকে নিয়ে ভাবতাম না। সেই সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল আমাদের ভয়ের কারণ।” এর পর ঠাট্টার সুরেই তিনি বলে ওঠেন, ”ভারতকে তো আমরা কতবার যে হারিয়েছিল। ওদের জন্য খারাপই লাগে।” স্বাভাবিকভাবেই এই কথা বলার পর সভাঘরে তাঁর জন্য হাততালির রোল ওঠে। ইমরান আবার বলেন, ”ওঁরা তখন খুব চাপে থাকত। টসের সময় ওঁদের ক্যাপ্টেনের মুখ দেখেই বুঝতাম, প্রচণ্ড চাপে আছে বেচারা।” যাই হোক বর্তমান যত ভুলে থাকা যায় ততই ভালো ইমরান খানের।





