সমাজের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভরসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই নিয়ম ভাঙেন, তাহলে আস্থা তলানিতে ঠেকে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস গড়ে ওঠে শৃঙ্খলা, সততা ও দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। কেবল অপরাধ দমনই নয়, নিজেদের আচরণ ও নৈতিকতার দিক থেকেও তাঁরা আদর্শ হবেন, এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
তবে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় পুলিশের সেই দায়িত্ববোধে ফের ধাক্কা লাগল। এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যা না হলে সাধারণ মানুষ ভাবতেও পারতেন না। গভীর রাতে পুলিশের গাড়ি, একজন পুলিশ আধিকারিক, আর তাতে উপস্থিত এক বান্ধবী—এরপরই যা ঘটল, তা চমকে দেওয়ার মতো। শুধুমাত্র নিয়ম লঙ্ঘনই নয়, একপ্রকার ‘শ্যুটআউট’-এর ঘটনায় নাম জড়িয়েছে এক পুলিশ অফিসারের, যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে, মধ্য হাওড়ার নেতাজি সুভাষ রোডের একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে। সেখানে আচমকাই গুলির শব্দ শুনে চমকে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা যায়, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন হুগলির চণ্ডীতলার থানার তৎকালীন আইসি জয়ন্ত পাল। আশ্চর্যের বিষয়, তিনি নিজে ছুটিতে ছিলেন না, অথচ নিজের থানার এলাকা ছেড়ে হাওড়ায় কী করছিলেন? আরও বিস্ময়ের, তিনি পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়িতে সেখানে এসেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন এক বান্ধবী! গোটা ঘটনায় রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়, জয়ন্ত পালকে চণ্ডীতলা থানার আইসি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।
আরও পড়ুনঃ CAG রিপোর্ট পেশ হতেই বিধানসভায় তুলকালাম! মোদীর বিরুদ্ধে তোপ, একসঙ্গে সাসপেন্ড ১২ AAP বিধায়ক!
তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় হুগলি গ্রামীণ জেলা পুলিশের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমকে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সেই টিমের রিপোর্ট হুগলির পুলিশ সুপারের হাতে জমা পড়েছে এবং তা এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-র কাছেও পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও পুলিশ অফিসার থানার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গেলে তাঁকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। কিন্তু জয়ন্ত পাল কোনো অনুমতি ছাড়াই হাওড়ায় গিয়েছিলেন। এই নিয়ম লঙ্ঘনের কারণেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর, জয়ন্ত পালের গাড়িতে বসেই বান্ধবীর সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যার পরেই ঘটে গুলির ঘটনা। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ঝোপের মধ্যে থেকে এক দেশি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। শুধু তাই নয়, তাঁর গাড়ি থেকে পাওয়া যায় যৌন বলবর্ধক ওষুধ! এসব তথ্য সামনে আসার পর পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়টিও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই ঘটনার জেরে পুলিশের ভাবমূর্তি ফের কালিমালিপ্ত হল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






