রান্নার গ্যাস সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। সকালে চায়ের কেটলি বসানো থেকে শুরু করে দুপুরের ভাত-তরকারি, রাতের খাবার—সবকিছুই নির্ভর করে গ্যাসের ওপর। শুধু গৃহস্থালির রান্না নয়, ছোট-বড় খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট—সর্বত্রই গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাসের সামান্য দাম বাড়লেই মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সকলের নাভিশ্বাস ওঠে। সাম্প্রতিক কালে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়েছে। তার ওপর রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি শুধু যে রান্নার খরচ বাড়ায়, তা নয়। এটি একপ্রকার ডোমিনো এফেক্ট তৈরি করে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট কিংবা স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারা গ্যাসের দাম বাড়লে খাবারের দামও বাড়িয়ে দেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের খরচ আরও বেড়ে যায়। একইসঙ্গে, ছোট ব্যবসায়ীদের উপরেও এর প্রভাব পড়ে। যারা ফুড স্টল বা ক্যাটারিং ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের লাভ কমতে থাকে। ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরেই এর প্রভাব পড়ে। তাই গ্যাসের দাম বাড়ার খবর এলেই সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।
এই অবস্থায়, মার্চের শুরুতেই বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল তেল কোম্পানিগুলি। শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫ থেকে সারা দেশে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে আপাতত স্বস্তি একটাই—ডোমেস্টিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) কর্তৃক প্রকাশিত নতুন তালিকা অনুযায়ী, দিল্লিতে এখন বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ১৮০৩ টাকা, কলকাতায় ১৯১৩ টাকা এবং মুম্বইতে ১৭৫৫.৫০ টাকা।
আরও পড়ুনঃ হাইকোর্ট চত্বরেই মহিলা সাংবাদিকের উপর হামলা! পশ্চিমবঙ্গে কি বাকস্বাধীনতাও আক্রান্ত?
এর আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে তেল সংস্থাগুলি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছিল। কিন্তু টানা দ্বিতীয় মাসে দাম কমার পর, মার্চে আবারও দাম বাড়ানো হলো। ব্যবসায়ীদের মতে, গ্যাসের দাম বাড়লে বাজারে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যও বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। যদিও এই বৃদ্ধির হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, তবুও মুদ্রাস্ফীতির চাপে নাজেহাল মানুষ আরও সমস্যায় পড়বে।
প্রতি মাসের প্রথম দিনেই এলপিজির দাম পর্যালোচনা করে তেল কোম্পানিগুলি। ফলে আগামী মাসে আবার দাম বাড়বে নাকি কমবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে রান্নার খরচও ক্রমশ চড়া হয়ে উঠছে। তাই সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে সরকারের দিকেই, যদি কোনওভাবে মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানা যায়।






