পুরুষরাও নির্যাতিত! স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, আত্মহত্যার আগে ভিডিওতে কী বললেন IT কর্মী?

সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কখনও মানসিক অবসাদ, কখনও পারিবারিক কলহ, আবার কখনও সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে বহু মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনের চাপ, প্রতিযোগিতা, সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্বের বোঝা মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। আত্মহত্যা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্যও এক গভীর সংকেত বহন করে।

সাধারণত গার্হস্থ্য নির্যাতন বা সম্পর্কজনিত হেনস্তার প্রসঙ্গ উঠলে নারীদের কথাই বেশি শোনা যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে পুরুষরাও যে নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন, তা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অনেক পুরুষ পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না, কারণ সমাজে এই বিষয়ে প্রচলিত ধারণা তাঁদের চুপ থাকার দিকে ঠেলে দেয়। আইন যতটা নারীদের সুরক্ষিত করেছে, ততটাই পুরুষদের জন্যও সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের আগ্রার এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী মানব শর্মার মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বেঙ্গালুরুর অতুল সুভাষের ঘটনার পর এবার ফের আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মানব আত্মহত্যার আগে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেছেন, স্ত্রীর হেনস্তার শিকার হয়েই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বলেছেন, “ছেলেদের জন্যও আইন থাকা উচিত, নইলে একের পর এক পুরুষ এইভাবে নির্যাতনের শিকার হবেন।”

মানবের বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য তাঁর পুত্রবধূকে দায়ী করে। অন্যদিকে, মানবের স্ত্রী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর পাল্টা দাবি, মানব প্রচণ্ড মদ্যপান করতেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, “মানব আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আমি একাধিকবার ওকে বাঁচিয়েছি। উলটে আমাকেই ও হেনস্তা করত, মারধর করত।” ফলে এই মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ গ্যাসের দাম বাড়ল! এবার কি সাধারণ মানুষের রান্নাতেও পড়বে ভয়ংকর প্রভাব?

পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং মানবের মোবাইল থেকে উদ্ধার করা ভিডিও পরীক্ষা করে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, “আমরা মিলিটারি হাসপাতাল থেকে খবর পাই যে এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।” মানবের মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজতে পুলিশ তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং ঘনিষ্ঠদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই ঘটনার পর আবারও সমাজে আলোড়ন উঠেছে, পুরুষদের সুরক্ষার জন্যও আইন প্রণয়ন প্রয়োজন কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে নতুন করে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles