গরমের দাপট ধীরে ধীরে বাড়ছে। চৈত্র মাস পড়তেই তাপমাত্রার পারদ উর্ধ্বমুখী। সকাল থেকেই কড়া রোদ, তার উপর পাল্লা দিয়ে আর্দ্রতাও বেড়েছে। বাড়ির বাইরে পা রাখলেই যেন ঝলসে যাচ্ছে শরীর। দুপুর গড়াতে না গড়াতেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। যাঁরা বাইরে বেরোতে বাধ্য হচ্ছেন, তাঁরা মাথায় গামছা বা ছাতা নিয়ে বেরোচ্ছেন। পানীয় জলের চাহিদাও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। চায়ের দোকানের পাশে বসা ডাবের দোকানদারদের ব্যস্ততাও বেড়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই শহর কলকাতা ও তার আশপাশের জেলাগুলিতে গরমের প্রভাব বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েকদিনে উষ্ণতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হবে। কিন্তু এই গরম থেকে রেহাই মিলবে কবে? কবে দেখা মিলবে স্বস্তির বৃষ্টির? এই প্রশ্নই এখন সকলের মুখে মুখে।
তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ৪০ ডিগ্রি
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকবে। অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছতে পারে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে গরমের দাপট আরও বেশি থাকবে বলে অনুমান আবহাওয়াবিদদের। ইদের দিনও গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং তাপমাত্রার পারদ আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আগামী তিন দিনে রাজ্যের বেশিরভাগ জেলাতেই দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়বে। ফলে দিনের বেলায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই
এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই সকলের মনে একটাই প্রশ্ন— কবে হবে বৃষ্টি? কবে মিলবে স্বস্তি? কিন্তু হাওয়া অফিসের রিপোর্ট তাতে আশার আলো দেখাতে পারছে না। জানা গেছে, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, গরমের দাপট থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে, উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে শুক্রবার এবং শনিবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। যদিও দক্ষিণবঙ্গের মানুষদের আপাতত কড়া রোদের সঙ্গেই দিন কাটাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Astrology: ৩ এপ্রিলের মহাযোগে বদলে যাবে তিন রাশির ভাগ্য! কেরিয়ার, অর্থ, জীবনে আসছে বড় পরিবর্তন!
তাপপ্রবাহের সতর্কতা, কী করবেন?
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি রয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ১.৭ ডিগ্রি বেশি। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.১ ডিগ্রি, স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৪ ডিগ্রি বেশি। তাপপ্রবাহের আশঙ্কা থাকায় বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রচুর পরিমাণে জল পান করা, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা, দুপুরে রোদে বেশি সময় না থাকা, এই কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখতে বলছেন চিকিৎসকেরা। এখন দেখার, কবে প্রকৃতি দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে স্বস্তি দেবে।






