CM Mamata banerjee in Oxford : বিদেশের মাটিতেও থামল না রাজনীতি! অক্সফোর্ডে মমতার ভাষণের মাঝে SFI-এর বিক্ষোভ, দেবাংশুর পাল্টা তোপ!

বিশ্বের বুকে শিক্ষার পীঠস্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি(Oxford University)। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মনীষীদের উপস্থিতিতে যার গৌরবময় অধ্যায় রচিত হয়েছে যুগ যুগ ধরে। এই বিদ্যাপীঠেই এবার আমন্ত্রিত হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার ভাবমূর্তি, উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এই সুযোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বিদেশের মাটিতে গিয়েও রাজনীতির বিতর্ক যেন তাঁর পিছু ছাড়ল না।

ভারতের রাজনীতিতে মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়, কিন্তু সেই মতাদর্শগত সংঘাত এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ছাপ ফেলল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন অক্সফোর্ডের মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছেন, তখনই ঘটে গেল অপ্রত্যাশিত ঘটনা। সামনে বসে রয়েছেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা। কিন্তু ঠিক পিছনের সারিতে একদল বিক্ষোভকারী হাতে পোস্টার নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে অনুষ্ঠানের আবহ পাল্টে যায়। অনেকেই হতভম্ব হয়ে পড়েন এই পরিস্থিতিতে।

তবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ধৈর্য্য বজায় রেখে হাসিমুখেই বলেন, “ধন্যবাদ, আমাকে এই ভাবে স্বাগত জানানোর জন্য। এটা গণতন্ত্র। আপনারা নিজেদের দাবিগুলো আমায় জানাতে পারেন।” তাঁর এই সংযত প্রতিক্রিয়া উপস্থিত দর্শকদেরও নজর কাড়ে। যদিও ওই বিক্ষোভকারীরা কারা, তা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক তরজা।

আরও পড়ুনঃ Weather update : রেহাই নেই দক্ষিণবঙ্গের! আগুনের লেলিহান শিখা নিয়ে আসছে তাপপ্রবাহ, কী বলছে হাওয়া অফিস?

তৃণমূলের আইটি সেলের সভাপতি দেবাংশু ভট্টাচার্য প্রথম থেকেই এই বিক্ষোভের উৎস খুঁজতে তৎপর হন। পরে তিনি বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করে দাবি করেন, তাঁরা বাম ছাত্র সংগঠন SFI-এর ব্রিটেন শাখার সদস্য। দেবাংশু এক ধাপ এগিয়ে তাঁদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন এবং লেখেন, “সিপিএম কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটি ভারত বিরোধী, বঙ্গ বিরোধী শক্তির আখড়া।” পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ধৈর্যের প্রশংসা করে তিনি মন্তব্য করেন, “দিদি হাসিমুখে যে জুতোগুলো ওদের মুখে মেরেছেন, সেই প্রত্যেকটা আসলে ওদের বাংলার নেতাগুলোর মুখে পড়েছে।”

অন্যদিকে, SFI-এর তরফে একটি পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাঁরা দাবি করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ করছিলাম, অথচ আমাদের কণ্ঠরোধের জন্য পুলিশ ডাকা হয়।” এই ঘটনার জেরে বিদেশের মাটিতেও বাংলার রাজনীতি চর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে গণতান্ত্রিক পরিসর কোথাও যেন সংকুচিত হয়ে পড়ছে, যা আগামী দিনে আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর