শিঙারা খেতে গেলে চাটনি চাইবেই, তাও যদি একটু বেশি মেলে, তাহলে তো কথাই নেই! তবে ভাবুন তো, এক প্যাকেট চাটনি না দেওয়ায় শুরু হল বচসা, মুহূর্তেই তা গড়াল হাতাহাতিতে, আর তারপর? রাস্তা অবরোধ, পুলিশের হস্তক্ষেপ, এমনকি রাজনৈতিক চর্চা! অবাক লাগছে? কিন্তু বাস্তবে ঠিক এমনটাই ঘটেছে বীরভূমের দুবরাজপুরে, যেখানে শিঙারার সঙ্গে অতিরিক্ত চাটনি না পাওয়া নিয়ে এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বস্তুত, বাঙালির খাদ্যরসিকতার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। শিঙারা, আলুর চপ, বেগুনি—এইসব খাবারের সঙ্গে একটুখানি মিষ্টি বা টক-ঝাল চাটনি না হলে যেন স্বাদই অপূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু কখনও কখনও এই সামান্য বিষয় বড়সড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চাটনির পরিমাণ নিয়ে সাধারণত দোকানদারদের সঙ্গে ক্রেতাদের কথা কাটাকাটি লেগেই থাকে, কিন্তু এবার তা শুধু কথা কাটাকাটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে, দুবরাজপুরের শ্মশান কালী মন্দিরের কাছে একটি তেলেভাজার দোকানে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুবরাজপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শেখ নাজিরউদ্দিন ওই দোকানে গিয়ে তিনটি শিঙারা কেনেন। এরপর তিনি দোকানকর্মী জিতেন্দ্রনাথ সাহার কাছে অতিরিক্ত এক প্যাকেট চাটনি চান। কিন্তু দোকানকর্মী তাঁকে জানান, অতিরিক্ত চাটনি দেওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগ, এতেই রেগে যান শেখ নাজিরউদ্দিন এবং রাগের মাথায় তিনি দোকানকর্মীকে সপাটে চড় মারেন।
আরও পড়ুনঃ CM Mamata banerjee in Oxford : বিদেশের মাটিতেও থামল না রাজনীতি! অক্সফোর্ডে মমতার ভাষণের মাঝে SFI-এর বিক্ষোভ, দেবাংশুর পাল্টা তোপ!
এই ঘটনার পর দোকানের আশপাশে উপস্থিত ক্রেতারা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে আসেন এবং ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে, শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপেই শেখ নাজিরউদ্দিনকে আটক করা হয়।
পরে অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে অভিযুক্ত কাউন্সিলর দোকানকর্মীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। যদিও তিনি চড় মারার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি চাটনি চাইতেই দোকানকর্মী আমায় খারাপ ভাষায় কথা বলেন। তখন আমি ওনাকে একটু ঠেলা দিয়েছিলাম, কিন্তু চড় মারিনি।” তবে এই ব্যাখ্যায় এলাকাবাসী খুব একটা সন্তুষ্ট নন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষত, সামনে পঞ্চায়েত ভোট থাকায় এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে।





