দেশজুড়ে এখন শুধু শোক আর ক্ষোভ। পাহাড়ি হাওয়া, চিরাচরিত শান্তির কাশ্মীর—সেই ভূস্বর্গেই ঘটে গেল ভয়াবহ ঘটনা। নিরীহ পর্যটকদের রক্তে রঞ্জিত হল রাজপথ। কারও বিয়ে ছিল, কেউ পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন, কেউ আবার জীবনে প্রথমবার কাশ্মীরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে পেলেন শুধু মৃত্যু। গোটা দেশ এখন একটাই প্রশ্ন করছে—নিরীহ মানুষদের উপর এই বর্বর আক্রমণের নেপথ্যে কে?
ঠিক এমন সময়ে এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা দেখে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কেক হাতে ঢুকছেন পাকিস্তান হাই কমিশনে। সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, “এই কেক কার জন্য, কী উপলক্ষে?” কিন্তু উত্তর না দিয়ে সেই ব্যক্তি দ্রুত ভিতরে চলে যান। এরপরই প্রশ্ন ওঠে—কাশ্মীর যখন কাঁদছে, তখন পাকিস্তান হাই কমিশনে উদযাপন কিসের?
২২ এপ্রিল, পাহালগামের কাছে পর্যটক ভর্তি একটি মিনিবাসে আচমকা গুলি চালায় জঙ্গিরা। ২৬ জন নিহত, বহু মানুষ আহত। হামলার দায় স্বীকার করে ‘কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স ফোর্স’ নামক এক সংগঠন, যার সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবা এবং অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর সংযোগের তথ্য সামনে আনছে গোয়েন্দারা। একদিকে এই নৃশংস হামলা, আর অন্যদিকে পাক দূতাবাসে কেক? স্বাভাবিকভাবেই এই দুইয়ের মধ্যে ‘সম্ভাব্য যোগসূত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে গোটা দেশ।
কেক নিয়ে ঢুকতে দেখা ব্যক্তিকে বারবার প্রশ্ন করা হলেও, তিনি কোনও উত্তর দেননি। পাকিস্তান হাই কমিশনের তরফ থেকেও কোনও সরকারি বিবৃতি আসেনি এই বিতর্ক নিয়ে। এই নিরবতা যেন আরও বেশি করে প্রমাণ করছে কিছু একটা লুকোনো হচ্ছে। বহু নেটিজেন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “কাশ্মীর কাঁদছে, আর এরা কেক কাটছে? এ কোন উদযাপন?” প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তান কি এই রক্তাক্ত ঘটনার মধ্যে লুকিয়ে উদযাপন করছে জঙ্গি সাফল্য?
আরও পড়ুনঃ Pahalgam Attack : জঙ্গিদের হাতে বিশেষ অ্যাপ! সেনার নজর এড়িয়ে পাহাড়ে হামলার ছক, কোন গোপন শক্তি লুকিয়ে রয়েছে জঙ্গিদের গোপন অ্যা’পে?”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারত সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনজন পাকিস্তানি কূটনীতিককে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে দেশছাড়া করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, বিদেশ দফতর ও সেনা দফতরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক করা হয়েছে। পাশাপাশি SAARC-এর আওতায় পাকিস্তানিদের ভিসা ছাড়ও বাতিল করা হয়েছে। এই সমস্ত পদক্ষেপে ভারতের স্পষ্ট বার্তা—সন্ত্রাস আর মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আর কোনও রকম সহানুভূতির জায়গা নেই। আর জনগণের মনেও জ্বলছে একই আগুন—কাশ্মীরের রক্তের বদলা চাই।






