Pahalgam Attack : জঙ্গিদের হাতে বিশেষ অ্যাপ! সেনার নজর এড়িয়ে পাহাড়ে হামলার ছক, কোন গোপন শক্তি লুকিয়ে রয়েছে জঙ্গিদের গোপন অ্যা’পে?”

পর্যটন মানেই প্রকৃতির টানে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ভিড় বাড়ে জম্মু-কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে। একদিকে বরফ ঢাকা পর্বতশৃঙ্গ, অন্যদিকে পাইনের ঘন সবুজ বন—এই দুইয়ের টানেই ছুটি কাটাতে ছুটে যান হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু সেই ছবির মাঝেই হঠাৎ যদি গুলি চলতে শুরু করে? যদি নিরীহ পর্যটকদের সামনে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক হামলা? ঠিক এমনটাই ঘটেছে কাশ্মীরের বৈসরন ভ্যালিতে, পহেলগাঁওয়ের এক জনমানবহীন অঞ্চলে।

পর্যটনের চেহারার আড়ালে কীভাবে হামলার ছক কষে নিচ্ছে জঙ্গিরা, তা ফের স্পষ্ট হল এই হামলার ঘটনায়। পাহাড়ি রিসর্টে হামলা, তারপরে নিখুঁতভাবে সরে পড়া—পুরো অপারেশন যেন কোনও হাই-টেক মুভির স্ক্রিপ্ট। পাহাড়ি রাস্তা, পাইনের জঙ্গল আর পর্যটকদের মধ্যে মিশে থাকা মুখগুলো—এই ছবি দেখতে দেখতে কে বুঝতে পারবে, ঠিক কোথায় লুকিয়ে রয়েছে আততায়ীরা? অথচ বাস্তবে, সেনার চোখে ধুলো দিয়ে, এই চিত্রনাট্য বাস্তব করেছে একদল জঙ্গি।

সূত্র অনুযায়ী, সেনা ও গোয়েন্দা আধিকারিকদের সন্দেহ, এই জঙ্গিরা ‘অ্যালপাইন কোয়েস্ট’ (AlpineQuest) নামের একটি বিশেষ এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করছিল। এটি এমন একটি অ্যাপ, যা কোনও নেটওয়ার্ক ছাড়াই নিরবিচারে সংযোগ রাখতে সক্ষম। ঘন জঙ্গলে যেখানে সাধারণ নেটওয়ার্ক কাজ করে না, সেখানে এই অ্যাপ জিপিএস (GPS) ম্যাপিং ও এনক্রিপ্টেড ম্যাসেজিংয়ের মাধ্যমে জঙ্গিদের একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে। সেনার মতে, এই অ্যাপই অপারেশনের সময় জঙ্গিদের একে অপরের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।

ঘটনার সময় জঙ্গিদের একাধিক টিম ছিল। একটি দল রিসর্টে হামলা চালাচ্ছিল, অন্য দল সেনা ও পুলিশের গতিবিধি নজর রাখছিল। সেই তথ্য সঙ্গে সঙ্গে পাচ্ছিল অপারেশন চালানো জঙ্গিরা। আর এই তথ্য আদানপ্রদানেই ব্যবহৃত হয়েছে সেই বিশেষ অ্যাপ। ফলে সেনার হাতে পড়ার আশঙ্কাই ছিল না। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ ব্যবহার করলে তথ্য সহজেই ট্রেস করা যেত। কিন্তু এই বিশেষ এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহারেই সেনার নজর এড়িয়ে যায় তারা।

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে হিন্দু হত্যার বদলা নিতে মরিয়া ভারত, পাশে আমেরিকা-ইজরায়েল!

তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, হিউম্যান নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকলে এত নিখুঁতভাবে অপারেশন চালানো সম্ভব হত না। কারণ বৈসরন ভ্যালিতে জঙ্গিদের এমন চেইন গঠনের মতো লোকবল নেই। ফলে প্রাথমিক অনুমান, মূল ভরসা ছিল প্রযুক্তিই। সেনা সূত্রের খবর, এই ধরনের এনক্রিপ্টেড অ্যাপ কীভাবে কাজ করে, কতটা মারাত্মক হতে পারে নিরাপত্তার দিক থেকে—তা এখন বিশ্লেষণ করছে সেনাবাহিনী। একদিকে পাহাড়ি পর্যটন, অন্যদিকে জঙ্গি হামলা—এই দ্বৈত পরিস্থিতি সামাল দিতে গোটা উপত্যকাজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর