কাশ্মীর উপত্যকার হিমেল হাওয়ায় যখন বসন্ত আসছে, তখন উপত্যকার রাজনীতি আর কূটনৈতিক পরিস্থিতি উল্টোপথে হাঁটছে। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন শুধুই একটাই প্রশ্ন—আবার কি কিছু হতে চলেছে? দোকানে বাজারে, চায়ের আড্ডায় কিংবা বাসের ভেতরে, এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কাশ্মীর। মানুষের অজানা একটা ভয়, যা যেন চোখে দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু অনুভব করা যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।
সম্প্রতি সেনাবাহিনীর গতিবিধি আর একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে জনমানসে তৈরি হয়েছে একটা অনিশ্চয়তা। কিছু মানুষ মনে করছেন, বড় কিছু ঘটতে চলেছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, হয়তো আর একবার পাল্টে যাবে ভূস্বর্গের মানচিত্র। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—ঠিক কী ঘটছে কাশ্মীরে? ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনে এবার নতুন কী চমক অপেক্ষা করছে?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কাশ্মীর উপত্যকায় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সেনা মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে থার্মাল স্যাটেলাইট ইমেজিং ও নজরদারির পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় সেনা এখন আর শুধু চোখে দেখা তথ্যের উপর নির্ভর করছে না, বরং ড্রোন-প্রতিরোধী প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে একের পর এক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে এতেই থেমে নেই ভারতের কৌশলগত প্রস্তুতি।
ভারতের এই পদক্ষেপে কার্যত হাঁসফাঁস শুরু করেছে পাকিস্তান সেনা। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)-এ নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সেনা মোতায়েন করেছে তারা। এমনকি, আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে এনে পূর্ব সীমান্তে পাঠানো হয়েছে—এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। পাক সেনার এই ব্যাকফুটে যাওয়া থেকেই স্পষ্ট, ভারতের আক্রমণের আশঙ্কায় তীব্র স্নায়ুর চাপে রয়েছে তারা।
আরও পড়ুনঃ Jhantu Ali Sheikh : বুকে আগুন, চোখে জল… কফিনবন্দি ঝন্টুকে দেখে ভেঙে পড়লেন মা, স্ত্রীর গলায় প্রতিশোধের আর্জি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যে কোনও সময় প্রত্যাঘাত করতে পারে, এমন বার্তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। তাই মেঘের আড়াল থেকে নজরদারির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনওরকম ঢিলেমি যাতে না থাকে, সেদিকে নজর রেখেছে ভারতীয় সেনা। সীমান্তের ওপারে কী ঘটছে, তার প্রতিটি মুহূর্তের খবর হাতে রাখছে ভারত। সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে শুধু একটি সিদ্ধান্তেই বদলে যেতে পারে উপত্যকার ভবিষ্যৎ। আর সেই সিদ্ধান্তের জন্যই কার্যত দরদর করে ঘামছে পাকিস্তান।






