বিদেশের মাটিতে বসবাস করলেও দেশের প্রতি আবেগ কখনও ম্লান হয় না। বিশেষ করে যখন মাতৃভূমির মাটিতে রক্ত ঝরে, তখন সেই যন্ত্রণা বহুদূরের মানুষকেও নাড়া দেয়। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল লন্ডন শহর। ভিনদেশের মাটিতে ভারতের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাস্তায় নেমে এলেন শতাধিক মানুষ। ছোট-বড় প্ল্যাকার্ড, ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে, মুখে প্রতিবাদের ঝড় তুলে একত্রিত হলেন তাঁরা পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনে।
যখন সন্ত্রাসবাদ ফের রক্তাক্ত করে ভারতের জমি, তখন তা আর শুধু ভারতের একার ক্ষতি থাকে না, গোটা মানবতার ওপর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত, যারা প্রবাসে থেকেও ভারতের সঙ্গে আত্মিক বন্ধনে জড়িয়ে আছেন, তাঁদের কাছে এই ধরনের হামলা আরও গভীর ক্ষতের মতো লাগে। তাই পহেলগামের নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে লন্ডনের রাস্তায় নেমে পড়েন ভারতীয় ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষ, হাতে ব্যানার আর স্লোগান নিয়ে।
এই প্রতিবাদ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। ৫০০-রও বেশি মানুষ যোগ দিয়েছিলেন এই সমাবেশে, যারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন। তাঁরা পাকিস্তানের প্রতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্তরে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। কিন্তু সমাবেশ চলাকালীন ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা পরিস্থিতিকে হঠাৎ করে উত্তপ্ত করে তুলল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলল। প্রতিবাদের মাঝে পাকিস্তান হাই কমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা, কর্নেল তাইমুর রহাত, আচমকাই অত্যন্ত বিতর্কিত ভঙ্গিমায় প্রতিবাদীদের দিকে তাকিয়ে গলা কাটার ইঙ্গিত করেন। তাঁর এই ভয়ংকর অঙ্গভঙ্গি ক্যামেরাবন্দি হয়ে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জবাবে এমন প্রকাশ্য হুমকির মতো অঙ্গভঙ্গি ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।
প্রতিবাদে উপস্থিত সংগঠকরা কর্নেল রহাতের এই আচরণকে সরাসরি উসকানি বলে দাবি করেছেন। তাঁদের কথায়, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসের নিন্দা না করে, তবে তারা সরাসরি সন্ত্রাসের সঙ্গী। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান হাই কমিশনের তরফে সেই সময় উচ্চস্বরে উদ্দীপনামূলক গান বাজানো হয়, যা প্রতিবাদকারীদের মতে চূড়ান্ত অবমাননাকর। এক ইহুদি অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা ভারতের পাশে আছি কারণ আমাদেরও একই শত্রু—ইসলামিক মৌলবাদ। পহেলগামের ঘটনা আমাদের ৭ অক্টোবর হামাস আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ Indian army: সাহসিকতায় ফের নজির ভারতীয় সেনার, পাক সেনার ঘুম ছুটিয়ে সীমান্তে নজিরবিহীন কন্ট্রোল ভারতীয় সেনার!
পহেলগামের হামলার পর ভারতের তরফে নেওয়া হয়েছে একাধিক বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ। আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে ১৯৬০ সালের ইন্দাস জলচুক্তি। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অটারি সীমান্ত দিয়ে চলাচল। এছাড়া ভারতের মাটিতে অবস্থানরত সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিককে ১ মে-র মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের হাই কমিশন থেকেও কূটনীতিক সংখ্যা কমানো হচ্ছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আরও কঠোর সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।





