Mamata Banerjee: ‘মাইক বন্ধ করে অপমান’, তাই দিল্লি বর্জন! নীতি আয়োগের বৈঠকে কেন গেলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

দেশের আর্থসামাজিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন জাতীয় স্তরে চূড়ান্ত নীতি নির্ধারণের কথা, তখনই অনুপস্থিত বাংলার একমাত্র কণ্ঠ—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েক মাসে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, ‘অপারেশন সিঁদুর’, এবং আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগে উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। এই প্রেক্ষিতে দিল্লির নীতি আয়োগের বৈঠককে ঘিরে ছিল চরম কৌতূহল। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—যেখানে রাজ্যের উন্নয়নের নীতি নির্ধারিত হবে, সেখানে বাংলার প্রতিনিধি থাকবেন না কেন? একটানা কর্মসংস্থান, পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা, রাজ্যের বকেয়া প্রাপ্তি—এই সব জ্বলন্ত বিষয়গুলিতে আলোচনার সুযোগে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

যেখানে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় উন্নয়ন নীতির উপর, সেখানে বাংলার পক্ষ থেকে কারও না থাকা অনেকের কাছেই আশঙ্কার কারণ। বহু সাধারণ নাগরিকই ভাবছেন, ‘আমাদের জন্য কথা বলবে কে?’ বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অনুদান না আসার অভিযোগ যেমন আছে, তেমনই কেন্দ্রের অভিযোগও যে রাজ্য সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে না। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে উপস্থিত না থেকে কি রাজ্য নিজেকে আরও কোণঠাসা করছে?

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৭ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীতি আয়োগের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ মাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি মাঝপথে সভা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। মমতার দাবি, তাঁকে রাজ্যের বঞ্চনার কথা বলতেই দেওয়া হয়নি। সেই ঘটনার পরে এ বছর মুখ্যমন্ত্রী সেই বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এবার এই বৈঠকে হাজির ছিলেন একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ২০৪৭ সালের উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

মমতার অনুপস্থিতি নিয়ে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণেই এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করলেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ এমনিতেই পিছিয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত থেকে নিজেদের দূরে রাখা মানে বাংলাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া।” বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য থেকে মেধা ও শ্রমশক্তি অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে, ফলে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা আরও দুর্বল হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Abhishek Banerjee : “ইউ লিভ ইন্ডিয়া, ইউ ব্রিদ ইন্ডিয়া” — পাকিস্তান ও TRF-কে আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার মমতার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, “যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেখানে যাওয়ার কী প্রয়োজন?” তাঁর দাবি, গতবারের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত অপমানজনক ছিল। “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যখন বাংলার বঞ্চনার কথা বলছিলেন, তখন মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এটা নজিরবিহীন।” তাঁর মতে, বাংলার মানুষ জানে কেন মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠকে যাননি, কারণ রাজ্যের সম্মান এবং স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনও বৈঠকে যোগ দেওয়া উচিত নয়। ফলে এই ঘটনায় কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক আরও জটিল পর্যায়ে পৌঁছল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles