দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের ভরসা আজও অটুট। কিন্তু অনেক সময় এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা শুধু আইন নয়, মনুষ্যত্বকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। ভাবুন তো, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত কেউ যদি আদালতের জামিন পেয়ে উৎসবে মেতে ওঠে, মিছিল করে শহরজুড়ে ঘুরে বেড়ায়—সেই ছবি দেখলে আপনার মনে কী প্রতিক্রিয়া হবে? হয়তো অনেকেই হতবাক হবেন, ক্ষুব্ধ হবেন। কিন্তু বাস্তবটা তার থেকেও ভয়ঙ্কর।
সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকে। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গণধর্ষণের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি বিজয়ের মিছিলে সামিল হয়েছে। বাইক, গাড়ি, ডিজের তালে তালে শহর ঘুরে উল্লাসে ফেটে পড়েছে তারা। কেউ হাসছে, কেউ হাত নাড়ছে, যেন এক ভয়ঙ্কর অপমানের মুখে দেশের আইন ও নারী নিরাপত্তা।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কর্নাটকের হাভেরি জেলার একটি হোটেল থেকে এক ২৬ বছরের মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে। ওই সময় পুলিশ সক্রিয় হয়ে ১৯ জনকেই গ্রেফতার করেছিল। পরে তদন্তের ভিত্তিতে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ১২ জন আগেই জামিন পেয়ে যায়। বাকি সাতজনের জামিন হয় চলতি বছরের মে মাসের শেষদিকে। জামিন পেতেই সেই সাতজনের মধ্যে পাঁচজন বৃহস্পতিবার আক্কি আলকুর শহর থেকে হাভেরি পর্যন্ত এক জমকালো শোভাযাত্রায় অংশ নেয়, যা প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে চলে।
ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। দেখা যায়, জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করেই অভিযুক্তরা জনসমক্ষে মিছিল করেছে। এরপরই ওই পাঁচজনকে ফের আদালতে হাজিরার সময় গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, জামিনের শর্ত না মানার কারণেই ফের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে তাদের। বাকি দুই অভিযুক্তের এখনও সন্ধান মেলেনি। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee: ‘মাইক বন্ধ করে অপমান’, তাই দিল্লি বর্জন! নীতি আয়োগের বৈঠকে কেন গেলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, জামিন পাওয়া অভিযুক্তরা কীভাবে এত বড় জমায়েত করল? কোথায় ছিল পুলিশি নজরদারি? একইসঙ্গে, জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়েছে—কীভাবে গণধর্ষণের মতো অপরাধে অভিযুক্তরা জনসমক্ষে এভাবে বিজয় উদযাপন করতে পারে? সমাজে এমন বার্তা কি আরও অপরাধপ্রবণ মনোভাবকে উসকে দেবে না? আপাতত পাঁচ অভিযুক্তের ফের শ্রীঘরে ফেরা হলেও, বাকিদের গ্রেফতার এবং কঠোর নজরদারির দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকেই।





