কেন্দ্র আশ্বাস দিয়েছে তাঁদের বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেন-বাসের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তাতেও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। তার উপর আবার অর্থহীন অবস্থায় ট্রেনে উঠবেন কী করে সেটা নিয়েও তাঁদের মস্ত চিন্তা। তাই সাইকেলেই রওনা দিয়েছিলে বাড়ির পথে। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি, পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয় এ সব নিয়েও শেষ পর্যন্ত আর বাড়ি ফেরা আর হল না অনেকেরই। মাঝপথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন দুই পরিযায়ী শ্রমিক। অন্য দিকে সিমেন্ট মিক্সারের মধ্যে লুকিয়ে ইন্দোর থেকে লখনউয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলেন ১৮ জন। মধ্যপ্রদেশে হাইওয়েতে আটকানো হয় সেই গাড়ি। বাড়ি ফেরার বদলে ওই ১৮ জন পরিযায়ী শ্রমিকের ঠাঁই হয়েছে এখন কোয়ারান্টিন সেন্টারে।
দিল্লিতে কাজ করতেন বিহারের বাসিন্দা, বছর বত্রিশের ধর্মবীর। লকডাউনের জেরে চলে গেছে কাজ। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এই অবস্থায় আরও কয়েক জনের সঙ্গে সাইকেলে পাড়ি দিয়েছিলেন। দিল্লি থেকে বিহারের খাগারিয়ার দূরত্ব ১২০০ কিলোমিটার। ২৮ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর অবধি পৌঁছতে পেরেছিলেন। সার্কেল অফিসার প্রবীণ কুমারের কথায়, ‘শুক্রবার রাতে ধর্মবীরদের দল শাহজাহানপুরে দিল্লি-লখনৌ হাইওয়ের উপর হল্ট করছিল। সেখানেই তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’
এর ঠিক এক দিন আগে মধ্যপ্রদেশের সেন্ধাওয়ায় একই ভাবে প্রাণ গিয়েছে বছর পঞ্চাশের তাবারাতের। মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডি থেকে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জে ফিরছিলেন। প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে ভরসা ছিল সেই একমাত্র সাইকেলই। বৃহস্পতিবার রাত অবধি ৩৯০ কিলোমিটার অতিক্রমও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু আর পারলেন না। সেন্ধাওয়া অবধি পৌঁছেই অবসন্ন অবস্থায় রাস্তার পাশে বসে পড়েন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ১০ জনের দলের সঙ্গে ২৫ এপ্রিল মহারাষ্ট্র থেকে রওনা দিয়েছিলেন তাবারাত। দলের বাকিরা চেয়েছিলেন তাবারাতের দেহ মহারাজগঞ্জ পর্যন্ত নিয়ে যেতে। কিন্তু লকডাউনের জেরে সেটা সম্ভব হয়নি। সেন্ধাওয়াতেই সারা হয় শেষকৃত্য নিকটজনের অগোচরে।
২৪ মার্চ রাতে লকডাউন জারি হওয়ার পর থেকে দেশের নানা প্রান্তে আটকে পড়েছেন ভিন রাজ্যের শ্রমিকরা। তাঁরা কেউ হেঁটে, কেউ আবার সাইকেল বা ভ্যানে দীর্ঘপথ অতিক্রম করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতেই সম্প্রতি নির্দেশিকা জারি করে ট্রেন ও বাসের ব্যবস্থা করতে বলেছে কেন্দ্র। তার পরেও অসহায় শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার তাগিদের কাছে হার মানছে সব উদ্যোগ।






