সামান্য কয়েক দশক আগেও বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে ভারতের অবস্থান ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে। বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি—সবদিক থেকেই পিছিয়ে ছিল এই দক্ষিণ এশীয় দেশ। কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে ভারতের আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গিও। দেশজুড়ে বড় বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উৎপাদন শিল্পে গতি, ও তরুণ কর্মশক্তির প্রভাব বদলে দিয়েছে ভারতের চেহারা।
আজকের দিনে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ হোক বা শহরের মধ্যবিত্ত পরিবার—সবাই কোনও না কোনওভাবে ভারতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছেন। অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে মোবাইল ফ্যাক্টরি, কৃষি বাজার থেকে তথ্যপ্রযুক্তি—ভারতের প্রতিটি খাত আজ বিশ্বদরবারে মুখ উঁচু করে দাঁড়িয়ে। তাই যখন কেউ বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে একটি, তখন তা আমাদের প্রত্যেকের গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
এই গর্বের মুহূর্তই এল গত শনিবার। নীতি আয়োগের দশম গভর্নিং কাউন্সিল মিটিং শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে নীতি আয়োগের সিইও বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম জানালেন এক অভাবনীয় সাফল্যের কথা। তিনি বললেন, এই মুহূর্তে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। তিনি আইএমএফের (IMF) পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ভারতের মোট জিডিপি (GDP) এখন ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জাপানের মত উন্নত দেশকেও টপকে যাওয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সরকারের ধারাবাহিক নীতি, যুবশক্তির উদ্যম, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল এবং উৎপাদন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পরিকল্পনা। বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম জানান, এখন ভারতের আগে রয়েছে মাত্র তিনটি দেশ—আমেরিকা, চিন ও জার্মানি। তাঁর মতে, যেভাবে দেশ এগোচ্ছে, আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Marital affair : বিয়ের পর প্রেম জিম ট্রেনারের সঙ্গে! স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতায় বিষ খেলেন স্বামী, সুইসাইড নোটে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ!
ভারত এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানকে টপকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজের স্থান করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, সম্পদ নগদীকরণের (Asset Monetisation) দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে এবং এই বিষয়ে অগাস্টে বড় ঘোষণা হবে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাপল আইফোন উৎপাদন সংক্রান্ত মন্তব্যের জবাবে বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম বলেন, “ভারতই এখনও সবচেয়ে সস্তা এবং দক্ষ শ্রমের দেশ। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভারতই হতে পারে ভবিষ্যতের প্রধান উৎপাদন ক্ষেত্র।”






