সিভিকের ‘গুন্ডাগিরি’ লাইভে ধরতেই মারধর, ফোন কেড়ে নিল! পাশেই চুপচাপ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ!

সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরোনোর সময় চোখে রাখেন পুলিশের পোশাক। ট্র্যাফিক সিগন্যালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ কর্মী অনেকের কাছেই যেন রক্ষাকবচ। বিপদে পড়লে প্রথমেই মনে পড়ে থানার কথা। কেউ হারিয়ে গেলে, কেউ নিখোঁজ হলে বা রাস্তায় অনৈতিক কিছু দেখলে মানুষ প্রথমেই ফোন করেন পুলিশকে। সমাজের স্থিতি বজায় রাখতে এই বিশ্বাস অত্যন্ত জরুরি।

কিন্তু ওই বিশ্বাসটাই যদি বারবার টাল খায়? যাঁদের কাঁধে আইন রক্ষার দায়িত্ব, তাঁরাই যদি আচরণে সেই আইনকেই পিষে দেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন? পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আগেও। কখনও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, কখনও ক্ষমতার অপব্যবহার—এসব কাহিনি আজকাল ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে মোবাইল ভিডিওর হাত ধরে। আর এবার সেই বিতর্কে ঘি ঢেলেছে উত্তরবঙ্গের গাজোলডোবার ঘটনা।

গাজোলডোবায় গতকাল এক বাইক আরোহীকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, নাকা চেকিং চলাকালীন এক সিভিক ভলান্টিয়ার বাইক আরোহীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বাইক আরোহী তখন ভিডিও করতে শুরু করেন এবং প্রশ্ন তোলেন—সিভিকের গায়ে নেই কোনও ব্যাজ, নাম প্লেট বা পরিচয়পত্র। কথায় কথায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ভিডিও রেকর্ড করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সিভিক কর্মী বাইক আরোহীর ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক কর্মীও, কিন্তু তাঁরা কেউই হস্তক্ষেপ করেননি। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই প্রথম নয়। বেশ কিছু মাস আগে কলকাতার এক ট্রাফিক পুলিশ অফিসার বাইকের ফাইন করার সময় বাইকচালককে প্রকাশ্যে চড় মারেন। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই লালবাজার থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়—সেই অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কলকাতা পুলিশের এই পদক্ষেপ তখন প্রশংসিত হয়েছিল। এবার প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কি সেই পথেই হাঁটবে? অভিযুক্ত সিভিক কর্মী এবং উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

আরও পড়ুনঃ ২৬ হাজারের লড়াই আরও তীব্র! ‘রিপ্যানেলিং’ ও সুবিচারের দাবিতে আন্দোলন ছড়ালো রাজ্য ছাড়িয়ে রাজধানী পর্যন্ত!

যদি আইনরক্ষকরাই আইনের সীমা লঙ্ঘন করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের হাতে ভরসা থাকবে কোথায়? কলকাতা পুলিশের পর যদি রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধেও এই ধরনের অভিযোগ উঠে আসে, তবে প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বেশি। শুধুমাত্র তদন্ত নয়, দেখতে হবে দোষীদের শাস্তি হয় কিনা। না হলে ‘আইন সবার উপরে’ এই বাণী শুধুই দেওয়ালে টাঙানো পোস্টার হয়েই থেকে যাবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles