কেউ ছিলেন স্কুলের প্রিয় শিক্ষক, কেউবা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন স্বপ্নের চাকরির জন্য। কিন্তু আচমকা আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে গেল তাঁদের চাকরি, যেন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র পেটের দায় নয়, আত্মমর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে হাজার হাজার চাকরিহারাদের জীবনে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অপেক্ষা, এবং সংগ্রাম—সব কিছুর কি তাহলে কোনও মূল্য নেই?
এসএসসি-র ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন এই রায়ের জেরে। যাঁরা একসময়ে নিযুক্ত ছিলেন, তাঁরাই এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজেদের ‘যোগ্য’ প্রমাণ করতে মরিয়া। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা বলছেন, তাঁদের আর নতুন করে কোনও পরীক্ষা দিতে হবে না—এটাই তাঁদের স্পষ্ট অবস্থান। একাধিকবার রাজ্য সরকার ও শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবার তাঁদের নজর রাজধানীর দিকে।
আজ, সোমবার শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমারের সঙ্গে টানা দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন আন্দোলনকারী চাকরিহারা শিক্ষকরা। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁরা কোনও ভাবেই নতুন করে পরীক্ষায় বসবেন না। তাঁদের দাবি, সিবিআই যে ওএমআর শিট উদ্ধার করেছে, সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ‘রিপ্যানেলিং’ করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, আদালত এই বিষয়ে সুবিচার দিতে পারেনি। পাশাপাশি তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কারণ রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য যে রিভিউ পিটিশনের খসড়া তৈরি করেছে, তা আপাতত তাঁদের দাবি মেনে চলেছে।
আন্দোলনকারীদের একটাই যুক্তি—ওএমআর শিটের ‘মিরর ইমেজ’ প্রকাশ করলেই বোঝা যাবে, কারা প্রকৃতভাবে যোগ্য এবং কারা দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে কারা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এসেছেন, তা এই নথিই প্রমাণ দেবে। বিকাশ ভবনের সামনের আন্দোলনের কারণে যে হিংসার আবহ তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল আন্দোলনে শান্তি বজায় রাখার। সেই নির্দেশ মেনেই এবার তাঁরা আন্দোলনের নতুন ধাপ শুরু করতে চলেছেন।
আরও পড়ুনঃ Bikash Bhavan : চাকরি না ফেরালে আন্দোলন আরও জোরদার! আজ দুপুরে শিক্ষাভবনে চাকরিহারাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক!
আজকের বৈঠকের পর চাকরিহারা শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি এখন আর শুধুমাত্র রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এবার আন্দোলন হবে দিল্লিমুখী। তাঁরা মনে করছেন, রাজ্য সরকার এবং আদালতের সীমারেখার মধ্যে থেকে আর সুবিচার পাওয়া সম্ভব নয়। তাই কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং নিজেদের দাবিকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতে তাঁরা এবার রাজধানীর পথে হাঁটবেন। শেষ কথা স্পষ্ট—চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।





