ভোটের হাওয়া রাজ্যে ধীরে ধীরে বইতে শুরু করেছে। আর তার মাঝেই রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তেজনা। নেতাদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনার পারদ চড়ছে, দলীয় কর্মীদের মধ্যেও বিরাজ করছে প্রবল কৌতূহল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আর হাতে গোনা কয়েক মাস বাকি। তার আগেই আবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে রাজ্যে একের পর এক সফরের ঘনঘটা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর ডেপুটি অমিত শাহের আগমন যেন ঘি ঢালছে আগুনে।
সাধারণ কর্মী থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব— সবার মনে একটাই প্রশ্ন, এই সফরে অমিত শাহ কী বার্তা নিয়ে আসছেন? শুধুই কি সংগঠনের খোঁজখবর? নাকি তার বাইরেও কোনও কৌশলগত সিদ্ধান্ত রয়েছে? রাজনীতির কারবারিদের মতে, এবার আর শুধু বক্তৃতা বা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকছে না তাঁর সফর। বরং প্রত্যেক স্তরের নেতা-কর্মীদের জন্য এটা হতে চলেছে একরকম কর্মশালা, যেখানে নির্দেশিকা মিলবে আগামী ভোটের জন্য। তার জন্যই এমনভাবে সাজানো হয়েছে সফরের সূচি।
সূত্রের খবর, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেদিন রাতেই বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন তিনি। পরের দিন অর্থাৎ রবিবার সকালে রাজারহাটে একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। সেই কর্মসূচি সেরে দুপুরে হোটেলে ফিরে মধ্যাহ্নভোজের পর সরাসরি রওনা দেবেন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের উদ্দেশে। সেখানে বিজেপির রাজ্য, জেলা ও মণ্ডল স্তরের নেতাদের নিয়ে সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
এই সম্মেলনে মূল ফোকাস থাকবে দলের নতুন নেতৃত্বের দিকে। রাজ্যে বিজেপির ১৩০০-রও বেশি মণ্ডল রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ মণ্ডলে সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। সাংগঠনিক ৪৩টি জেলায় ৩৯টির সভাপতির নাম ঘোষণা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই নবাগত। দলের সঙ্গে আগে থেকে যুক্ত থাকলেও সংগঠনের দায়িত্ব নতুন করে পেয়েছেন অনেকে। তাঁদের দিকনির্দেশ দেওয়াই হবে শাহের মূল লক্ষ্য। বুথ স্তর থেকে শুরু করে রাজ্য নেতৃত্ব পর্যন্ত কীভাবে সংগঠনকে আরও শক্তপোক্ত করে তোলা যায়, সে দিকেই থাকছে তাঁর নজর।
আরও পড়ুনঃ Anubrata Mondal : হাজিরার দিন অনুব্রত মন্ডলের বদলে হাজির ৭ আইনজীবী! ভাইরাল অডিয়োর পরও নিজে এলেন না ‘কেষ্ট’
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বেই কি এগোতে চলেছে রাজ্য বিজেপি? নাকি এবার দায়িত্ব আসতে চলেছে নতুন কারও কাঁধে? কারণ, এখনও পর্যন্ত রাজ্য সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি। প্রদেশ পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে বিধানসভাভিত্তিক নাম পাঠিয়ে। সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে, অমিত শাহের মুখ থেকেই কোনও ইঙ্গিত মেলে কি না, তার অপেক্ষায় আছেন সবাই। নেতাজি ইন্ডোরের সভা শেষে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের সিমলার বাড়িতে সাধু-সন্ত সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দিল্লি ফিরে যাবেন। তবে তাঁর এই সফর যে শুধুই সাংগঠনিক বৈঠক নয়, বরং আগামী নির্বাচনের রূপরেখা তৈরির সূচনা, তা একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





